20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের প্রেস কনফারেন্সে ভেনেজুয়েলা অপারেশন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক শাসন পরিকল্পনা

ট্রাম্পের প্রেস কনফারেন্সে ভেনেজুয়েলা অপারেশন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক শাসন পরিকল্পনা

সোমবার শনিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বিস্তৃত প্রেস কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বর্তমান শাসক নিকোলাস মাদুরোকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক দল ভেনেজুয়েলায় অস্থায়ীভাবে শাসন পরিচালনা করবে, এবং প্রতিবেশী কলম্বিয়াকে সতর্ক করেছেন।

কনফারেন্সে ট্রাম্পের পেছনে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও, ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ, সিনিয়র এডভাইজার স্টিফেন মিলার, সিআইএ ডিরেক্টর জন র্যাটক্লিফ এবং শীর্ষ জেনারেল ড্যান কেইন। এই উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার ব্যাপকতা ও গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।

ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলায় একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবর্তন নিশ্চিত করা, যার পর দেশটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের দলগুলো অস্থায়ীভাবে শাসন পরিচালনা করবে এবং শীঘ্রই দেশকে স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দেবে।

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, রড্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে ইচ্ছুক এবং দেশের পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি এই সহযোগিতাকে ভেনেজুয়েলাকে আবার শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিপক্ষের রাজনৈতিক নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি জানান, মাচাদো দেশের অভ্যন্তরে যথেষ্ট সমর্থন ও সম্মান পায় না, ফলে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত নন। যদিও তিনি মাচাদোকে একটি সদয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তার প্রভাব সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ট্রাম্পের দল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। তিনি বলেন, এই কোম্পানিগুলো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ভাঙা তেল নেটওয়ার্ক মেরামত করবে এবং দেশের জন্য আয় উৎপাদন শুরু করবে।

তবে তেল রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অঞ্চলে অবস্থান বজায় রেখেছে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্পগুলো সবসময় সক্রিয় থাকবে যতক্ষণ না তার দাবিগুলো পূর্ণভাবে সন্তোষজনকভাবে সমাধান হয়।

প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহত্তর সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, যদি পরিস্থিতি দাবি করে, তবে দ্বিতীয়, আরও বড় আকারের আক্রমণ চালানো সম্ভব।

ট্রাম্পের মতে, মাটিতে সৈন্য পাঠানোর বিষয়েও কোনো আপত্তি নেই; তিনি ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাটিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপকে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও শাসন পুনর্গঠনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অধীনে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্যকে অটুট রাখতে দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না।

শেষে, ট্রাম্প প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গঠন করা। এই কনফারেন্সে প্রকাশিত পরিকল্পনা ও মন্তব্যগুলো ভেনেজুয়েলা ও তার প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments