লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে শুক্রবার বিকেলে প্রবাসী বাংলাদেশি, মুক্তিযোদ্ধা, এবং বিভিন্ন দল‑সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনের অংশগ্রহণ করেন।
কনস্যুলেটের দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল; উপস্থিতরা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন। অনুষ্ঠানের সূচনা এক মিনিটের নীরবতা দিয়ে করা হয়, এরপর তরুণ শিক্ষার্থী ওয়াহিদা রহমান কোরআন তেলাওয়াত করেন, যা সভার শোভা বাড়িয়ে তুলেছিল।
সভা পরিচালনা করেন ডেপুটি কনস্যুলার জেনারেল আলাউদ্দিন ভূইয়া, এবং প্রায় দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে বক্তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মজীবন, সততা, নীতি, ধৈর্য এবং জনগণের প্রতি তার অনন্য স্নেহের কথা তুলে ধরেন। শোকসভা শেষে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে উপস্থিতদের প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা প্রকাশ পায়।
কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল শোকসভা সমাপ্তির পর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে দল‑সংগঠন নির্বিশেষে দেশের নেত্রীর প্রতি যে সম্মান প্রদর্শিত হয়েছে তা তার দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকার প্রতিফলন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব। কনস্যুলেট তিন দিন শোক পালন করবে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপি সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী (শিপলু) এবং সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির সম্পদ নয়, তিনি পুরো বাংলাদেশের সম্পদ। তিনি জনগণের নেতা, যার সুনাম দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই স্বীকৃত। তাদের মতে, তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কোনো একক দলকে সীমাবদ্ধ করা যায় না।
শোকসভায় উপস্থিত অন্যান্য বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির যুগ্ম সভাপতি ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সদস্যরাও ছিলেন, যা প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে একতা ও সম্মানের প্রকাশ ঘটায়। শোকবইতে স্বাক্ষরকারী প্রবাসীরা তাদের শোকবার্তা লিখে রেখে গেছেন, যা কনস্যুলেটের মেঝেতে রাখা হয়েছে।
এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে, এই ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় তার অবদানকে স্মরণীয় রাখবে এবং বিভিন্ন দল‑সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
কনস্যুলেটের শোককালীন ব্যবস্থা, অর্ধনমিত পতাকা এবং স্বাক্ষরবইতে জমা শোকবার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক ধরনের ঐক্যবদ্ধ সুরের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রবাসী সমাজের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুনরায় উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে।



