27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরায়ান কুগলার ও চ্যাডউইক বোজম্যানের প্রথম সাক্ষাৎ এবং ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ প্রকল্পের সূচনা

রায়ান কুগলার ও চ্যাডউইক বোজম্যানের প্রথম সাক্ষাৎ এবং ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ প্রকল্পের সূচনা

২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে, রায়ান কুগলার যখন তার নতুন চলচ্চিত্র ‘ক্রীড’‑এর প্রচারমূলক ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন, তখন চ্যাডউইক বোজম্যান অপ্রত্যাশিতভাবে উপস্থিত হন। বোজম্যান ইভেন্টে চুপিচুপি প্রবেশ করে কুগলারের পাশে বসে দুজনের মধ্যে প্রথম আলাপচারিতা শুরু হয়। দুজনই একে অপরকে জানার চেষ্টা করছিলেন, যদিও তখন মার্ভেল স্টুডিও এবং কুগলারের মধ্যে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা কিছুটা থেমে গিয়েছিল।

বোজম্যান ইতিমধ্যে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ (২০১৬) ছবিতে ট’চাল্লা, অর্থাৎ ব্ল্যাক প্যান্থার চরিত্রে অভিনয় সম্পন্ন করে ছিলেন। এই সময়ে তিনি কুগলারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তি ছিল হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সংযোগ। বোজম্যানের একসময়ের শিক্ষক ফিলিসিয়া রাশাদ, যিনি হাওয়ার্ডের প্রাক্তন অধ্যাপিকা, কুগলারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। রাশাদ হাওয়ার্ডে ডেনজেল ওয়াশিংটনকে একটি অক্সফোর্ড অভিনয় প্রোগ্রাম অর্থায়ন করতে সহায়তা করতেন, যেখানে বোজম্যান ও অন্যান্য শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন।

কুগলার ২০১৩ সালে ‘ফ্রুটভেল স্টেশন’ নামে একটি স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র তৈরি করেন, যা বেয়ারি গ্যারান্টের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বেয়ারি অঞ্চলের কালো সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। যদিও এই কাজটি মার্ভেল জগতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবু এটি কালো পুরুষদের সম্মুখীন হওয়া সামাজিক সমস্যার গভীর চিত্রণ করে। বোজম্যানের সঙ্গে কুগলারের সংযোগের একটি মূল দিক ছিল হাওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া একটি সমান ঘটনা, যা দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সংযোগ গড়ে তুলেছিল।

কুগলার বোজম্যানকে জিজ্ঞাসা করেন, হাওয়ার্ডে একই সময়ে কোন কোন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ব্র্যাডফোর্ড ইয়ং, যিনি প্রথম কালো সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে অস্কার নোমিনেশন পেয়েছিলেন, এবং তা-নেহিসি কোয়াটস, যিনি সাংবাদিক, লেখক, কর্মী এবং বর্তমানে হাওয়ার্ডের অধ্যাপক। কোয়াটসের ‘বিটুইন দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড মি’ গ্রন্থে তিনি তার সহপাঠী প্রিন্স জোন্সের গল্প তুলে ধরেছেন, যিনি হাওয়ার্ডে বোজম্যানের ক্লাসমেট ছিলেন।

বোজম্যানের হাওয়ার্ডে শিক্ষাকালীন সময়ে ফিলিসিয়া রাশাদের প্রভাব এবং কোয়াটসের বৌদ্ধিক পরিবেশ কুগলারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের সেতু হয়ে ওঠে। দুজনের পারস্পরিক পরিচিতি এবং একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাদের মধ্যে বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। এই সম্পর্কের ফলে কুগলার শেষ পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী বিশাল সাফল্য অর্জন করে।

কুগলার এবং বোজম্যানের প্রথম সাক্ষাৎটি শুধুমাত্র একটি অপ্রত্যাশিত মুহূর্তই নয়, বরং ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার সম্ভাবনা গড়ে তোলার সূচনা ছিল। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সমঝোতা, পাশাপাশি হাওয়ার্ডের শিক্ষাগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বন্ধন, তাদের যৌথ প্রকল্পকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।

‘ক্রীড’ প্রচারের সময় বোজম্যানের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি, দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক আলাপ এবং পরস্পরের কাজের প্রতি আগ্রহ, শেষ পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ চলচ্চিত্রের সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সাক্ষাৎটি চলচ্চিত্র শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে দুজনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা একত্রিত হয়ে একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রের জন্ম দেয়।

বোজম্যানের ট’চাল্লা চরিত্রের প্রথম প্রকাশ ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ এ হলেও, কুগলারের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ প্রকল্পকে নতুন দিক দিয়ে গঠন করে। দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা এবং হাওয়ার্ডের শিক্ষাগত পরিবেশের প্রভাব, চলচ্চিত্রের থিম ও বর্ণনায় গভীরতা যোগ করে।

এই সাক্ষাৎটি চলচ্চিত্রের পেছনের গল্পের অংশ হিসেবে শিল্পের মধ্যে একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুগলার এবং বোজম্যানের সংযোগের মাধ্যমে দেখা যায়, কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং শেয়ার করা শিক্ষাগত পটভূমি বড় স্কেলের সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বোজম্যানের মৃত্যুর পরেও, তার এবং কুগলারের এই প্রথম সাক্ষাৎ এবং যৌথ কাজের স্মৃতি চলচ্চিত্র প্রেমিকদের মধ্যে গভীরভাবে রয়ে গেছে। ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ শুধুমাত্র একটি সুপারহিরো চলচ্চিত্র নয়, বরং দুজনের বন্ধুত্ব এবং শেয়ার করা অভিজ্ঞতার ফলাফল।

সারসংক্ষেপে, রায়ান কুগলার এবং চ্যাডউইক বোজম্যানের প্রথম সাক্ষাৎ নভেম্বর ২০১৫-এ ‘ক্রীড’ ইন্টারভিউয়ের সময় ঘটে, যেখানে বোজম্যান অপ্রত্যাশিতভাবে উপস্থিত হয়ে দুজনের মধ্যে প্রথম আলাপ শুরু হয়। হাওয়ার্ডের শিক্ষাগত নেটওয়ার্ক, ফিলিসিয়া রাশাদের প্রভাব এবং তা-নেহিসি কোয়াটসের বৌদ্ধিক পরিবেশ এই সংযোগকে শক্তিশালী করে, যা শেষ পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ চলচ্চিত্রের সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments