27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা জানান ৮০ শতাংশ প্রকল্পে সমীক্ষা না, ভোটের আগে উদ্বেগ...

সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা জানান ৮০ শতাংশ প্রকল্পে সমীক্ষা না, ভোটের আগে উদ্বেগ প্রকাশ

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ – সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা আজ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে সরকারী তহবিলের অধীনে চালু হওয়া প্রায় আট দশ ভাগ প্রকল্পে কোনো ভিত্তিগত সমীক্ষা করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ঘাটতি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ফলাফল মূল্যায়নে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

উপদেষ্টার মতে, সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্পের চাহিদা, লক্ষ্যগোষ্ঠী ও সম্ভাব্য প্রভাব নির্ধারণ করা কঠিন, ফলে সম্পদের অপচয় এবং সেবার গুণগত মান হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রকল্পের পরিকল্পনা পর্যায়ে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ না করলে শেষ পর্যন্ত নাগরিকের উপকারে না পৌঁছাতে পারে।

এই মন্তব্যটি আসন্ন গণভোটের প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে, যেখানে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের ফলাফল সরাসরি প্রকল্পের অনুমোদন ও তহবিল বরাদ্দে প্রভাব ফেলবে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, ভোটের আগে প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য স্বচ্ছ তথ্যের প্রয়োজন, নইলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতে পারে।

বিপক্ষের প্রতিনিধিরা উপদেষ্টার মন্তব্যের প্রতি তীব্র সমালোচনা জানিয়ে বলেন যে, সরকার ইতিমধ্যে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মেকানিজম চালু করেছে এবং সমীক্ষা না করা প্রকল্পের সংখ্যা অল্প। তারা দাবি করেন যে, উপদেষ্টার বক্তব্য অতিরঞ্জিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে প্রকল্পের তথ্য যাচাই করার পরিকল্পনা করছে। উপদেষ্টা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, স্বতন্ত্র তদারকি ব্যবস্থা প্রকল্পের স্বচ্ছতা বাড়াবে।

প্রকল্পের সমীক্ষা না করা বিষয়টি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনেও আলোচনার বিষয় হয়েছে। তারা দাবি করে যে, তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রকল্পের আগে বিস্তারিত জরিপ ও প্রয়োজন বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। এই সংগঠনগুলো সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই বিষয়টি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যদি ভোটাররা প্রকল্পের অকার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতন হন। তারা উল্লেখ করেন যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকারী উদ্যোগের প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমে যেতে পারে।

উপদেষ্টা ভবিষ্যতে প্রকল্পের পরিকল্পনা পর্যায়ে বাধ্যতামূলক সমীক্ষা চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা না থাকলে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে এবং তহবিলের অপচয় রোধ করা যাবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারী তহবিলের অধীনে বর্তমানে চলমান প্রায় ১২০টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ২৪টি প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোতে সমীক্ষা না করা বা আংশিক সমীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এই তথ্যের ভিত্তিতে, উপদেষ্টা পরবর্তী সপ্তাহে একটি বিশদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে সমীক্ষা না করা প্রকল্পের তালিকা ও তাদের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রতিবেদন ভোটের আগে জনসাধারণের কাছে পৌঁছাবে।

অবশেষে, উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের উপর। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আহ্বান জানান যে, সমীক্ষা না করা প্রকল্পের সংখ্যা কমিয়ে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো উচিত, যাতে ভোটের পরেও জনসেবা ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments