18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রস্তাবক-সমর্থককে চট্টগ্রামে অপহরণ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অভিযোগ

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রস্তাবক-সমর্থককে চট্টগ্রামে অপহরণ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অভিযোগ

জাতীয় পার্টির এক শাখার সভাপতি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, গুলশানে নিজের বাসভবনে শনিবার বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় তার প্রস্তাবক ও সমর্থকদের অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মনোনয়ন পত্র বাতিলের পর দলের মধ্যে অব্যবস্থাপনা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।

মাহমুদের দলকে চট্টগ্রাম‑৫ (হাটহাজারী) আসনের মনোনয়ন পত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের পরই এই অভিযোগ উঠে। চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিনের মতে, দলীয় পত্রে স্বাক্ষরের মিল না থাকায় পত্র বাতিল করা হয়। আনিসুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রাম‑৫ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন।

বৈধভাবে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর, মাহমুদের দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অফিসে গিয়ে প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর হেলাল উদ্দিনের সমর্থকরা সেখানে বাধা সৃষ্টি করে। পুলিশ সহায়তায় দলীয় কর্মীরা রিটার্নিং অফিসে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনে থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।

আনিসুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এই ঘটনার জন্য তিনি বিএনপি সমর্থকদের দায়ী করছেন এবং বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনই তার কর্মী ও সমর্থকদের ভয় দেখানো হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “আজ মীর হেলালের সমর্থকরা আমার প্রস্তাবক ও সমর্থকদের অপহরণ করেছে।” এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করে, তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

বিএনপি পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বে একই আসনে মীর হেলাল উদ্দিনের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা যায়। এই ঘটনার পর, উভয় দলই নির্বাচনী পরিবেশের অবাধতা ও সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকায় দেশের নির্বাচন স্বতন্ত্র, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হতে পারবে না। তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এই অভিযোগের পর, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আনিসুল ইসলামকে জাতীয় পার্টি‑জেপি (জাতীয় পার্টি-জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ) এর প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে মনোনয়ন পত্রের বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্কের ফলে তার প্রার্থিতা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফলে জনমত ও ভোটারদের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। এছাড়া, দলীয় বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে জাতীয় পার্টির ভোটার ভিত্তি আরও ক্ষীণ হতে পারে।

অধিকন্তু, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, ভবিষ্যতে অন্যান্য আসনে অনুরূপ বিরোধের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হয়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments