সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন কেনুয়ার খালের মুখ থেকে শুক্রবার বিকেলে রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং দুজন ঢাকা-ভিত্তিক পর্যটককে বনদস্যুরা অপহরণ করে। অপহরণে মোট পাঁচজনকে লক্ষ্য করা হয়, যার মধ্যে রিসোর্টের মালিক এবং চারজন পর্যটক অন্তর্ভুক্ত।
সেই দিন বিকেলে ঢাকা থেকে নারী‑পুরুষসহ চারজন পর্যটক সুন্দরবনে ভ্রমণের জন্য পৌঁছায়। তারা দুপুরে ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত গোলকানন রিসোর্টে পৌঁছে, যেখানে রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়ের সঙ্গে রিসোর্টের সুবিধা ব্যবহার করে এক বোটে করে কেনুয়ার খালে ঘুরতে যায়।
বোটে চলার সময়ই বনদস্যুরা উপস্থিত হয় এবং বোটে থাকা পাঁচজনকে হঠাৎ করে আটক করে। দস্যুরা দুইজন নারী পর্যটককে পরে রাতের দিকে ছেড়ে দেয়, তবে রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং দুইজন পুরুষ পর্যটক—মো. সোহেল ও মো. জনি—কে জিম্মি করে রাখে।
অপহরণে জড়িত দস্যুরা মুক্তিপণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য অর্থের দাবি জানায়। রিসোর্টের মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড় এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং দস্যুদের দাবি সম্পর্কে জানিয়েছেন।
রিসোর্ট মালিকদের সমিতির নেতারা বর্তমানে দস্যুদের সঙ্গে মুক্তিপণ নিয়ে দর-কষাকষি চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট বনদস্যু গোষ্ঠী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী জানান, অপহরণের তথ্য তিনি পেয়েছেন, তবে দস্যুদের পরিচয় বা গোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
খুলনা দাকোপ থানা থেকে মো. আতিকুর রহমান জানান, অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটকের মুক্তি নিশ্চিত করতে থানা পুলিশ, নৌপুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযান চালু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে পর্যন্ত সমন্বিত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
বনবিভাগের অনুসন্ধান দলও ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দস্যুদের সনাক্তকরণ, মুক্তিপণ সংগ্রহের সম্ভাবনা এবং জিম্মিদের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুততর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন কোনো অগ্রগতি বা মুক্তিপণ গ্রহণের তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে কোনো আপডেট পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানাবে এবং জিম্মিদের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।



