ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তেহরানের একটি সমাবেশে ৩ জানুয়ারি দেশের জুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ স্বীকার করে শত্রুদের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও রিয়ালের মূল্য পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই বক্তব্যের পেছনে সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিক উন্মোচন করবে।
সমাবেশে খামেনি ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের ইরানের ইসলামী ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গোষ্ঠী দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল স্তম্ভ। তাই তাদের উদ্বেগকে অবহেলা করা যায় না, তা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
খামেনি জানান, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের বেশিরভাগই দোকানদারদের নেতৃত্বে হয়েছে এবং রিয়ালের অব্যাহত ওঠানামা তাদের উদ্বেগের প্রধান কারণ। তিনি বলেন, মুদ্রার মূল্য হ্রাস ও বিদেশি মুদ্রার অস্থিরতা ব্যবসার পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ব্যবসায়ী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অক্ষম বোধ করছেন।
নেতা আরও উল্লেখ করেন, যখন বাজারের মালিকরা মুদ্রা পতন ও মূল্যবৃদ্ধি দেখে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তাদের অভিযোগ স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা এই সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন, তবে তা ত্বরান্বিত করতে হবে। এধরনের আর্থিক অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।
বিদেশি মুদ্রার দামের দ্রুত বৃদ্ধি ও অনিয়ন্ত্রিত উত্থান-পতনকে তিনি শত্রুদের কাজ বলে অভিযুক্ত করেন। খামেনি বলেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং তা স্বাভাবিক নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রভাবকে দমন করা জরুরি।
নেতা উল্লেখ করেন, কিছু ভাড়াটে এজেন্ট ও উস্কানিমূলক গোষ্ঠী বাজারের পেছনে দাঁড়িয়ে ইসলাম, ইরান ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দেশের নিরাপত্তা ও ঐক্যের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য হল জনমতকে উত্তেজিত করে সরকারের নীতি ব্যাহত করা।
খামেনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টিতে সহায়তা করছে এবং তা অগ্রহণযোগ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুদের কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করা এবং তাদের সুযোগসন্ধানী আচরণ বন্ধ করা প্রয়োজন। শত্রুদের কোনো সময় বিশ্রাম নেই, তারা প্রতিটি সুযোগে লিপ্ত হয়, এ কথাটি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সরকার মুদ্রা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে এবং বিক্ষোভের মূল কারণগুলো সমাধানের জন্য নীতি পরিবর্তন করতে পারে। আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য নতুন নিয়মাবলী বা মুদ্রা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে বিক্ষোভের বিস্তার রোধের প্রচেষ্টা বাড়তে পারে।
বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী, বিশেষত দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, মূলত মুদ্রা হ্রাস, মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রয়ক্ষমতার হ্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা সরকারকে দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কার ও মুদ্রা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই দাবিগুলোকে সরকার কীভাবে সমন্বয় করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।
খামেনির বক্তব্যের পর, সরকারী কর্মকর্তারা সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন উপায় অনুসন্ধান করছেন বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ, মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য নীতি গঠন করা হতে পারে। এদিকে, বিক্ষোভের তীব্রতা কমাতে এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ দূর করতে সরকারী সংলাপের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।



