যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বৃহৎ আকারের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে। ট্রাম্প এই ঘটনাকে টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মতো রিয়েল‑টাইমে দেখেছেন বলে প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ফক্স নিউজের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ USS EO Jima-তে চড়িয়ে নিউ ইয়র্কের দিকে পাঠানো হয়েছে। ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রের অভিযোগ আনতে হবে এবং তার সঙ্গে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও আটক করা হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, এই অপারেশনটি ডিসেম্বর থেকে গোপনে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযানের সময় একটি হেলিকপ্টার আঘাতে কিছু আমেরিকান সামরিক কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আঘাতের পরেও অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং মাদুরোর গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় প্রভাব ফেলবে।
অভিযানের আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, মাদুরোর নিয়ন্ত্রণে থাকা তেল শিল্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হবে এবং আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলো এই ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকবে। তেলের ওপর এই জোর দেওয়া নির্দেশ করে যে, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বৃদ্ধি পাবে।
মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং তার স্ত্রীকে আটক করার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয় রয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস হতে পারে এবং নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটতে পারে।
ভেনেজুয়েলার সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার প্রভাব বাড়াতে এবং তেল সম্পদকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ও অর্থনৈতিক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া এবং তার শাস্তি নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থা অনুসারে হবে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেল নীতি পুনর্গঠন হতে পারে।



