22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ বিমানঘাঁটি ও সামুদ্রিক সরবরাহ সুবিধা ধ্বংসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ বিমানঘাঁটি ও সামুদ্রিক সরবরাহ সুবিধা ধ্বংসের দাবি

রাশিয়ার রক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থার সামরিক বিশ্লেষক আলেকজান্ডার স্টেপানোভের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রায় সব বিমানঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সরবরাহ নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য সামরিক পরিবহন বিমান অবস্থিত ঘাঁটিগুলিও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই বিবৃতি ৩ ডিসেম্বর (শনিবার) তাস সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

স্টেপানোভের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে, এরপর প্যারাট্রুপারসহ হেলিকপ্টার দলগুলো রাজধানী কারাকাসে প্রবেশ করে। তিনি বলেন, দেশের আকাশসীমা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দূরবর্তীভাবে পরিচালিত সিস্টেমের মাধ্যমে পুরো দেশ জুড়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্ণিত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সামুদ্রিক ও বিমান সরবরাহ সুবিধা সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে গেছে। স্টেপানোভ উল্লেখ করেন, পূর্বে মোতায়েন করা এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে তিনি নিশ্চিত যে প্রায় সব বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে এফ-১৬ এবং সামরিক পরিবহন বিমান অবস্থিত ঘাঁটিগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টোও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণকে নিশ্চিত করে জানান যে, ক্যারাকাসে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। এক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “ভেনেজুয়েলার কৌশলগত অবস্থান এবং তেল-গ্যাস সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা হয়, তবে এটি লাতিন আমেরিকায় শক্তি ভারসাম্যের পুনর্গঠন ঘটাতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের ফলে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ও সমুদ্রপথে চলাচল সীমাবদ্ধ হয়েছে, যা দেশের বাণিজ্যিক ও মানবিক সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তবে মানবিক সংকট বাড়তে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী প্রবাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার সরকার এখন জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে স্টেপানোভের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর প্রভাব বাড়তে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য অর্জিত হলেও, দেশের শাসন কাঠামো সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে অতিরিক্ত অভিযান চালানো সম্ভব হতে পারে।

এই ঘটনার পর, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে ভেনেজুয়েলার সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপকে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার সামরিক অবস্থা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা প্রত্যাশিত। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি জরুরি অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ও শান্তি রক্ষাকারী মিশনের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

সারসংক্ষেপে, রাশিয়ান বিশ্লেষকের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ বিমানঘাঁটি ও সামুদ্রিক সরবরাহ নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করেছে, যা দেশের আকাশ ও সমুদ্রপথে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ভেনেজুয়েলার সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এই সংঘাতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments