বেঙ্গলীয় দ্রুতগতি গলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ২০২৬ সালের আইপিএল সিজনের জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেএকেআর) ৯.২ কোটি রুপি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। তবে বেসিক্যাডি (বিবিসি) কর্তৃক নির্দেশনা পাওয়ার পর কেএকেআরকে তার চুক্তি বাতিল করতে বলা হয়েছে, যা শনি দিবসেই প্রকাশ পায়।
এই সিদ্ধান্তের সময় বাংলাদেশি ক্রিকেটের শীর্ষ খেলোয়াড় ও কোচরা সিলেটে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। দলীয় কার্যক্রমের মাঝেই মুস্তাফিজুরের আইপিএল থেকে বাদ পড়া সংবাদটি প্রকাশ পেয়ে দেশের ক্রিকেট সম্প্রদায়ে বিস্ময় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
বিবিসি কর্তৃক এই নির্দেশনা দেওয়ার পেছনে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনা উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ক্রিকেট ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে কেএকেআরকে মুস্তাফিজুরকে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনা ভারতের বাংলাদেশ সফরকে অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং আগামী মাসে শুরু হওয়া টি২০ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশকে ভারতীয় মাটিতে খেলতে হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
প্রাক্তন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক এবং বর্তমানে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ এই ঘটনার প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভিত্তিক কিছু শক্তি এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকতে পারে, যদিও সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়। মুস্তাফিজুর এবং সমগ্র দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি বলেন।
খালেদ মাহমুদ শাকিব আল হাসান যখন কেএকেআরের হয়ে খেলেছিলেন, তখন দেশের ভক্তরা কেএকেআরের প্রতি উত্সাহী হয়ে উঠেছিলেন, তা স্মরণ করে বলেন যে মুস্তাফিজুরের অংশগ্রহণেও একই রকম উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল। দুজনই যখন কেএকেআরের হয়ে খেলতেন, তখন বাংলাদেশি ভক্তদের মধ্যে কেএকেআরের প্রতি সমর্থন বাড়ে, তাই এই সিদ্ধান্তটি তাদের জন্য বিশেষভাবে হতাশাজনক।
মহমুদ সরকারকে আহ্বান জানান যে, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশি দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ও নিশ্চয়তা সম্পর্কে স্পষ্টতা আনতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অনিশ্চয়তা থাকে, তবে তা দেশের ক্ষতি বাড়িয়ে তুলবে।
এছাড়া তিনি পরামর্শ দেন যে, বিসিবি ও সরকার আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল)কে লিখিতভাবে জানিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরুক। যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তবে বাংলাদেশি দলের ম্যাচগুলোকে ভারতের বাইরে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে স্থানান্তর করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত।
প্রাক্তন জাতীয় ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আশরাফুল, যিনি বর্তমানে বিপিএলে মুস্তাফিজুরকে গাইড করছেন, তাও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, মুস্তাফিজুরের ক্যারিয়ার ও মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন এই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করে।
বিপিএল সিলেটে চলমান থাকায় মুস্তাফিজুর তার নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের জন্য খেলতে থাকবেন, তবে কেএকেআরের দলকে ২০২৬ সালের আইপিএল সিজনের জন্য নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। তার উচ্চমূল্যমানের চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার পারফরম্যান্স কেএকেআরের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কেএকেআরের এই সিদ্ধান্তের ফলে দলীয় গঠন ও কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে, এবং বাংলাদেশি ভক্তদের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। আইপিএল অডিশনে মুস্তাফিজুরকে উচ্চ দামের ট্যাগে কেনা হয়েছিল, যা তার দ্রুতগতি ও দক্ষতার স্বীকৃতি। তার অনুপস্থিতি কেএকেআরের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ক্রিকেট সম্প্রদায় এখন বেসিক্যাডি, বিসিবি এবং আইসিসি থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সমাধান প্রত্যাশা করছে। টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, কোন ভেন্যুতে হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে সকল পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। এই বিষয়গুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিতই থাকবে।



