কলম্বিয়া প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো শনিবার ভোরে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সভার পরে ভেনেজুয়েলা সীমান্তে সামরিক বাহিনী স্থাপন করার সিদ্ধান্ত জানালেন। দুই দেশের মধ্যে ২০০০ কিলোমিটারেরও বেশি স্থল সীমান্ত রয়েছে, যা সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের পর নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পেত্রোর ঘোষণার পেছনে ভেনেজুয়েলা মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য শরণার্থী প্রবাহ এবং সীমান্তে অস্থিতিশীলতা রোধের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের পর ভেনেজুয়েলায় শরণার্থী সংকটের সম্ভাবনা বাড়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার খবরের সঙ্গে সঙ্গে কলম্বিয়া এই পদক্ষেপ নেয়। মাদুরো ও ফ্লোরেসের আটককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পরই কলম্বিয়ার নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো কারাকাসে প্রথম বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শান্তি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে থাকেন। তিনি বলেছিলেন যে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি শরণার্থী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরি করবে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের পর দেশজুড়ে সামরিক বাহিনীর তাৎক্ষণিক মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তিনি মাদুরোর নির্দেশ অনুসরণে দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে বলে জানান।
পাদ্রিনো উল্লেখ করেন, “তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে, তবে আমাদের দমন করতে পারবে না” এবং ভেনেজুয়েলা সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সৈন্যবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
কলম্বিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে গার্ড ও পর্যবেক্ষণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ইউনিটগুলো শরণার্থী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পারাপার রোধ এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হবে বলে বলা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার সরকার উভয়ই সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে উভয় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পদক্ষেপকে অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের পর ভেনেজুয়েলায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর ফলে দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশেও পরিবর্তন আসতে পারে। মাদুরোর সরকার এই সময়ে জাতীয় সংহতি জোরদার করতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহে মনোযোগ দিচ্ছে।
কলম্বিয়ার এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। সীমান্তে সহযোগিতা বাড়লে শরণার্থী সমস্যার সমাধান দ্রুততর হতে পারে এবং উভয় দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা উভয়ই সীমান্তে যৌথ নিরাপত্তা মিটিংয়ের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এই মিটিংয়ে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি, শরণার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি স্থায়ী হয়, তবে তা উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় সরকারই শরণার্থী সুরক্ষা ও সীমান্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।



