ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এর নেতা সায়েদা নিলিমা দোলা আজ বিকেলে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন এবং পার্টির সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দোলা গত মে মাসে ফরিদপুরে এনসিপি কমিটি গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে এখন তিনি পার্টির মূল দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দোলার পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, পার্টি আর নতুন ও মিতব্যয়ী রাজনৈতিক পথ গড়ে তোলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, যা জুলাই মাসের পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গঠিত ছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এনসিপি আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন দিক নির্ধারণ করতে পারছে না; পার্টি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী রঙে রূপান্তরিত হয়েছে।
দোলা আরও উল্লেখ করেন যে, জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে গঠিত জোটটি কৌশলগত না হয়ে বরং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, যদি জোটটি সত্যিই কৌশলগত হতো, তবে এত সংখ্যক নেতা ও কর্মী পদত্যাগ করতেন না। দোলার মতে, জোটের গঠন প্রক্রিয়ায় পার্টির সদস্যদের যথাযথ তথ্য প্রদান করা হয়নি এবং তাদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে।
দোলার মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনগণের এনসিপি প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জুলাই আন্দোলন কোনো ধর্মীয় বিপ্লব ছিল না; শহীদরা ধর্মীয় রূপে নয়, ন্যায়, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে জীবন ত্যাগ করেছেন। ধর্মীয় রেটোরিকের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ সাধনের কোনো স্থান নেই।
পদত্যাগের পর, নাহিদ ইসলাম দোলার পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানিয়ে দেন এবং পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি দোলার উদ্বেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, পার্টি এখনো তার মূল লক্ষ্য ও নীতি পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
দোলার পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে এনসিপির অভ্যন্তরে আরও একাধিক নেতা ও সদস্যের পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। পার্টি ঘোষিত জামাত-ই-ইসলামি জোটের পর থেকে অন্তত অঠারোজন নেতা বা প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই ধারাবাহিক পদত্যাগ পার্টির সংগঠনগত কাঠামোকে দুর্বল করে তুলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে তার পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এনসিপি যদি তার জোটের কৌশল পুনর্বিবেচনা না করে এবং মধ্যপন্থী ভিত্তি পুনর্গঠন না করে, তবে পার্টি নির্বাচনী মঞ্চে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না। দোলার মতামত ও পদত্যাগের পেছনে থাকা কারণগুলো পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নীতিগত অমিলের সূচক হতে পারে।
এনসিপি এখনো জোটের শর্তাবলী ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে দোলার মতো উচ্চপদস্থ নেতার প্রস্থান পার্টির জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পার্টির সদস্যদের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ এবং জোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠন ও জোটের প্রভাবের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন, যাতে ভোটারদের কাছে পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট বার্তা পৌঁছাতে পারে। এনসিপি কীভাবে এই সংকট মোকাবেলা করবে এবং তার রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।



