ঢাকার ক্যাপিটাল মার্কেট সাংবাদিক ফোরাম (CMJF) তার দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করে। সভা ২ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ফোরামের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় শতাধিক সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। দুই বছরের মেয়াদে নির্বাচিত কর্মকর্তারা বাজার সংবাদ পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভোটের ফলাফল চিফ ইলেকশন কমিশনার নাসির উদ্দিন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়, যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে। এই নির্বাচন ফোরামের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
নতুন সভাপতি হিসেবে মোনির হোসেন, যিনি দৈনিক জুগান্তরের বিশেষ প্রতিবেদক, নির্বাচিত হন। তিনি পূর্বে ফোরামের বিভিন্ন কমিটিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার রিপোর্টিং দক্ষতা বাজার বিশ্লেষণে প্রশংসিত হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার আহসান হাবিবকে বেছে নেওয়া হয়। হাবিবের দীর্ঘমেয়াদী সাংবাদিক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তার সংযোগ ফোরামের কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে। উভয়ই মিডিয়া ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, যা ফোরামের নীতি নির্ধারণে পেশাদারিত্বের স্তর বাড়াবে।
ইলেকশন কমিশনের সদস্য হিসেবে মূলুল হাসান সোহেল, শাহনাজ শারমিন রিনভি এবং আবু আলি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কমিটি ভোট প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা, গোপনীয়তা এবং সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে ছিল। তাদের তত্ত্বাবধানে ভোটিং সিস্টেমের প্রযুক্তিগত দিকও আপডেট করা হয়, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল ভোটিংয়ের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে। কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা ফোরামের সদস্যদের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায় এবং নির্বাচনের বৈধতা শক্তিশালী করে।
২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সিনিয়র রিপোর্টার বাবুল বর্মন উপ-সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন, যা তার পূর্ববর্তী সাফল্যের স্বীকৃতি। স্বাধীন টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার তাহিদুল ইসলাম রানা যৌথ সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয় এবং রিপোর্টিংয়ের গুণমান উন্নয়নে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আর্থিক বিষয়ের দায়িত্বে মাহফুজুল ইসলামকে ফাইন্যান্স সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, যার কাজ বাজেট পরিকল্পনা ও আর্থিক তহবিলের ব্যবস্থাপনা। অফিস সেক্রেটারি হিসেবে অভিজ্ঞ রিপোর্টার ওবায়দুর রহমানকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যিনি দৈনন্দিন কার্যক্রমের সমন্বয় ও নথিপত্র পরিচালনা করবেন। এই পদগুলোর স্পষ্ট দায়িত্ব ফোরামের কার্যকরী পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
এক্সিকিউটিভ কমিটিতে আলমগীর হোসেন, মো. সাজ্জাদ হোসাইন, সুশান্তো সিনহা, মুস্তাফিজুর রহমান এবং এস.এম. জাকির হোসেন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। কমিটি ফোরামের নীতি নির্ধারণ, কৌশলগত উদ্যোগ এবং সদস্য সেবার তদারকি করবে। তাদের বৈচিত্র্যময় পটভূমি মিডিয়া, গবেষণা ও আর্থিক বিশ্লেষণকে একত্রিত করে ফোরামের কার্যক্রমকে সমন্বিত করবে। নিয়মিত সভা ও কর্মশালার মাধ্যমে তারা সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কিং সুযোগ বাড়াবে। এই কাঠামো ফোরামের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নেতৃত্বের পরিবর্তন বাজার সংবাদের গুণমান ও সময়োপযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করে। নতুন কর্মকর্তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রিপোর্টিং মানদণ্ড উন্নত করতে উদ্যোগ নিতে পারেন, যেমন রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ ও ইন্টারেক্টিভ গ্রাফিক্স। এটি বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়াবে এবং বাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া, মিডিয়া হাউসগুলোর বিজ্ঞাপন আয় বৃদ্ধি পাবে, কারণ উচ্চমানের কন্টেন্ট বিজ্ঞাপনদাতাদের আকর্ষণ করে।
বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেলে শেয়ারবাজারের লিকুইডিটি বাড়তে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হবে। সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও নৈতিক মানদণ্ডের উন্নতি বিনিয়োগের পরিবেশকে স্থিতিশীল করবে, যা দীর্ঘমেয়াদী মূলধন প্রবাহকে উৎসাহিত করবে। তদুপরি, ফোরামের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো তরুণ বিশ্লেষক ও রিপোর্টারদের দক্ষতা বাড়াবে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক হবে।
পরবর্তী দুই বছরে ফোরামকে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ডেটা বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। রিপোর্টিংয়ের স্বাধীনতা রক্ষা এবং রাজনৈতিক চাপ মোকাবেলা করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে, তবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও শক্তিশালী নীতি এই বাধা কমাতে পারে। যদি ফোরাম সফলভাবে এই দিকগুলো পরিচালনা করে, তবে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের গ্লোবাল প্রতিযোগ



