রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনি ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সশস্ত্র আগ্রাসন বলে নিন্দা জানায়, উল্লেখ করে যে এই পদক্ষেপের কোনো বৈধ কারণ নেই এবং এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই কাজকে “আদর্শিক বৈরিতা” দ্বারা চালিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বাস্তব স্বার্থের চেয়ে মতবাদের সংঘর্ষকে অগ্রাধিকার দেয়।
রাশিয়া জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত যে কোনো অজুহাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতা নিকোলাস মাদুরোর নাম উল্লেখ না করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে বলা হয়েছে যে, অপারেশনের সময় মাদুরোকে আটক করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর রাশিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে রাশিয়ান নাগরিকের কোনো ক্ষতি বা আঘাতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া এছাড়াও ভেনেজুয়েলা জনগণের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, আদর্শিক বিরোধের কারণে সৃষ্ট এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে কোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে আন্তর্জাতিক আইন ও সংযুক্ত জাতিসংঘের প্রোটোকল মেনে চলতে হবে।
ভেনেজুয়েলা সরকারও রাশিয়ার এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে ল্যাটিন আমেরিকায় জিও-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বিরোধের ফলে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে মাদুরোর নেতৃত্বে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে।
রাশিয়া ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা ও অন্যান্য ল্যাটিন আমেরিকান দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখতে চায়, তবে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো রূপকে স্বীকার করবে না।
রাশিয়ার এই নিন্দা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে কিছু দেশ রাশিয়ার অবস্থানকে সমর্থন করে, আবার অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেয়।
শেষ পর্যন্ত, রাশিয়া পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, আদর্শিক বৈরিতা ভিত্তিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।



