22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধহবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী নেতা শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হুমকি ও আগুনের দাবি করে গ্রেফতার

হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী নেতা শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হুমকি ও আগুনের দাবি করে গ্রেফতার

শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে এক প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা মুক্তি পাওয়ার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে পুলিশে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনি পুলিশের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়ে “বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়েছি” বলে হুমকি জানিয়েছিলেন।

মাহদী হাসান নিজেকে আন্দোলনের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি পূর্বে হবিগঞ্জ জেলার প্রধান সমন্বয়ক এবং বর্তমানে ওই জেলার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উপস্থিত হওয়ার সময় প্রশ্ন তোলেন, কেন তার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কেন বার্গেনিং করা হয়েছে। তার মতে, গত বছর আন্দোলনের সময় ১৭ জন সহকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং সেই ঘটনার সঙ্গে বানিয়াচং থানা ও এসআই সন্তোষের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

হুমকি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়েছি” এবং অতিরিক্তভাবে বলেন, “এই ঘটনার অর্থ আমি এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি, তবে আমাদের শহীদদের স্মরণে এই কথা বলছি”। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত কেউ তাকে “ভাই” বলে সম্বোধন করে থামাতে চাইলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।

পুলিশের মতে, মাহদী হাসান থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওএস (অফিসার) এর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন এবং হুমকি জানিয়ে শারীরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারাও জানান, হুমকি এবং অশান্তি সৃষ্টি করার পর তিনি গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাকে হালকা শারীরিক আঘাতের অভিযোগে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হুমকি ও অশান্তি সৃষ্টির অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের জেলা পুলিশ দপ্তর পরবর্তীতে জানায়, গ্রেফতারের পর মামলাটি স্থানীয় থানা থেকে জেলা থানা এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম হাই কোয়ার্টার (CHC) তে পাঠানো হবে। তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ভিডিও রেকর্ডিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে হুমকি এবং অশান্তি সৃষ্টির অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তবে চূড়ান্ত রায় আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

মাহদী হাসানের এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ১৭ জন শহীদ সহকর্মীর স্মরণে আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন এখানে ঘটেছে এবং আমাদের সহকর্মীরা শহীদ হয়েছে”। তবে তার এই বক্তব্যের কোনো প্রমাণ বা স্বীকৃতি সরকারী সূত্র থেকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের হুমকি এবং অশান্তি সৃষ্টির ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রয়োজন। তারা আরও যোগ করেন, “যদি কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য আইন লঙ্ঘন করে, তবে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত”।

অপরদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু সদস্যের মতে, মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার রাজনৈতিক মতামত দমন করার প্রচেষ্টা হিসেবে। তারা দাবি করেন, আন্দোলনের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা দরকার। তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি এখনও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

অধিক তথ্যের জন্য স্থানীয় থানা ও জেলা পুলিশ দপ্তরকে যোগাযোগ করা যেতে পারে। মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

এই ঘটনার পর, শায়েস্তাগঞ্জ থানা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। তারা স্থানীয় জনগণকে শান্তি বজায় রাখতে এবং কোনো অশান্তি ঘটলে দ্রুত রিপোর্ট করতে আহ্বান জানিয়েছে।

মাহদী হাসানের গ্রেফতার এবং তার হুমকি সংক্রান্ত মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে অগ্রসর হচ্ছে। আদালত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনগত অধিকার রক্ষা করবে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments