চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চট্টগ্রাম‑৪ (সীতাকুণ্ড উপজেলা ও নগরীর ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) ও চট্টগ্রাম‑৫ (হাটাহাজারী উপজেলা ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম‑৪ আসনে মোট দশজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার দ্বারা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম‑৫ আসনে একই সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ ছয়জনের পত্র বৈধ বলে স্বীকৃত হয়েছে।
চট্টগ্রাম‑৫ আসনের চারজন প্রার্থীর পত্র বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম ফজলুল হক, প্রয়াত হুইপের কন্যা সাকিলা ফারজানান ও মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের পত্র অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।
বাতিলের কারণগুলোতে এক শতাংশ ভোটার সংখ্যা সঠিক না হওয়ার ভিত্তিতে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পত্র রদ করা, আর ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের পত্রে স্বাক্ষরের ত্রুটি পাওয়া অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রাম‑৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে এসএম ফজলুল হক ও সাকিলা ফারজানান স্বতন্ত্রভাবে পত্র দাখিল করলেও তা অবৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম‑৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর ৯, ১০ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী প্রার্থী ছিলেন; সেই সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।
৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৩৭ আসনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন। সীতাকুণ্ড আসনের প্রাথমিক মনোনয়নে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনকে নাম দেওয়া হয়। একই দিনে কাজী সালাউদ্দিনের সমর্থকরা ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ চালায়। পরবর্তীতে দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়নে কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে নাম দেওয়া হয়।
বৈধতা নিশ্চিতকরণে মনোনয়নপত্রের স্বীকৃতি ও বাতিলের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম‑৪ ও‑৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিভাবে গড়ে উঠবে তা এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।



