ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকার নামিনেশন পত্রের যাচাই শেষ হয়ে, দুজন প্রার্থীর আবেদন স্বীকৃত এবং একজনের আবেদন বাতিল হয়েছে। ঢাকা রিজিওনাল রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুস আলি আজ বিকালে এগ্রাগাঁ, ঢাকার ইলেকশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (ETI) অনুষ্ঠিত স্ক্রুটিনির ফলাফল জানিয়ে দেন।
বৈধতা প্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামির আমীর মো. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীর (বিএনপি) শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। উভয় প্রার্থীর নামিনেশন পত্রে প্রয়োজনীয় সব নথি সঠিকভাবে জমা হয়েছে এবং কোনো আপত্তি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে, জামাতের শফিকুর, বিএনপির শফিকুল, বাংলাদেশ জাসাদের মো. আশফাকুল রহমান, জনতা পার্টির খান শোয়েব আমানুল্লাহ এবং গনোফোরামের এ.কে.এম. শফিকুল ইসলামকে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আহমদ সাজেদুল হক রুবেলকে নামিনেশন পত্রের অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। রুবেলের পাশাপাশি বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তানজিল ইসলামের আবেদনও যথাযথ পার্টি অনুমোদন না থাকায় বাতিল করা হয়েছে। রুবেল ও অন্যান্য দুজনের পত্র অস্বীকৃত হওয়ার কারণ হল পার্টি নোমিনেশন ফরমের যথাযথ পূরণ না হওয়া।
রিটার্নিং অফিসার ইউনুস আলি আরও জানিয়েছেন যে, জামাতের শফিকুর, বিএনপির শফিকুল, জাসাদের আশফাকুল, জনতা পার্টির শোয়েব এবং গনোফোরামের শফিকুলের নামিনেশন পত্রে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি, ফলে তারা সকলেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা পেয়েছেন। তবে, সিপিবি প্রার্থী রুবেল, সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন এবং স্বতন্ত্র তানজিলের পত্রে পার্টি অনুমোদনের অভাবের কারণে তারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
একটি পৃথক বিষয় হিসেবে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামসুল হকের নামিনেশন পত্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো স্থগিত রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার উল্লেখ করেছেন যে, শামসুলের বিরুদ্ধে চলমান একটি মামলার তথ্য পাওয়া পর্যন্ত তার পত্রের বৈধতা নির্ধারণ করা হবে না।
ঢাকা-১৩ নির্বাচনী এলাকার নামিনেশন পত্রের পরিস্থিতি আলাদা। মোট এগারোটি আবেদন জমা হওয়ার মধ্যে ছয়টি পত্র বৈধ বলে স্বীকৃত হয়েছে, আর পাঁচটি পত্র অস্বীকৃত হয়েছে। বৈধ তালিকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, খেলাফত মজলিশের মামুনুল হক, বিএনপির ববি হাজ্জাজ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুরাদ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো. শাহাবুদ্দিন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আখতার মুনিয়া অন্তর্ভুক্ত।
অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত পত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রাবিউল ইসলাম, গনো অধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লিগের শাহরিয়ার ইফতেখার, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির মো. খালেকুজ্জামান এবং আমজনতা পার্টির রাজু আহমেদ। এই প্রার্থীদের আবেদন পত্রে প্রয়োজনীয় নথি বা পার্টি অনুমোদনের ঘাটতি পাওয়া গিয়েছে।
ইউনুস আলি উল্লেখ করেন যে, এই সকল সিদ্ধান্ত ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশন ১১ ডিসেম্বর প্রকাশ করেছে। সময়সূচিতে উল্লেখিত শেষ তারিখের মধ্যে সকল প্রার্থীর নামিনেশন পত্র জমা এবং যাচাই শেষ করা হয়েছে।
নামিনেশন পত্রের এই চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈধ পত্র পেয়েছে এমন প্রার্থীরা এখন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের কাছে তাদের পরিকল্পনা ও নীতি উপস্থাপন করতে পারবে। অন্যদিকে, অস্বীকৃত পত্রের প্রার্থীরা আইনি বা পার্টি ভিত্তিক আপিলের মাধ্যমে পুনরায় অনুমোদন চাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, নির্বাচনী কমিশন এবং রিটার্নিং অফিসাররা ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, ভোটারদের সনাক্তকরণ এবং নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাবে। সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনী নিয়ম মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণ প্রচারণা বজায় রাখা উচিত, যাতে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।



