জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত চালানো বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অ-নিবন্ধিত ব্যবসার সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩১,০০০ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নেটের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই উদ্যোগটি ১০ই ডিসেম্বরের ভ্যাট দিবস ও পরবর্তী ভ্যাট সপ্তাহের পরপরই শুরু হয়ে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলেছিল।
ক্যাম্পেইনের মূল থিম ছিল “সময়মতো নিবন্ধন, সঠিক ভ্যাট প্রদান”, যা ব্যবসায়িক সেক্টরে স্বচ্ছতা ও সময়োপযোগী কর প্রদানকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়েছিল। ১০ই থেকে ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্যাট সপ্তাহের সময় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রাথমিকভাবে NBR ১০ লাখের বেশি অ-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থেকে ১০ লাখটি নিবন্ধন করার লক্ষ্য স্থির করেছিল। তবে বাস্তবে ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটের সমন্বয়ে গঠিত দল এক মাসের মধ্যে ১৩১,০০০টি নতুন নিবন্ধন সম্পন্ন করে লক্ষ্যকে ৩১,০০০টি অতিক্রম করেছে।
এই নিবন্ধন প্রচারের আগে দেশের মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ছিল ৬,৪৪০০০০। নতুন নিবন্ধনের ফলে এই সংখ্যা ৭,৭৫০০০০ে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণের আগে প্রায় ৫,১৬০০০০ ছিল। ফলে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজস্বের দৃষ্টিকোণ থেকে ভ্যাট দেশের একক বৃহত্তম আয় উৎস হিসেবে অবদান রাখে। গত অর্থবছরে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট এবং আয়কর থেকে সংগ্রহিত মোট রাজস্বের মধ্যে ভ্যাটের অংশ ৩৮ শতাংশ ছিল, যা সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অধিকাংশ কর্মকর্তার মতে, ভ্যাট ভিত্তি বিস্তৃত করা দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের ক্ষমতা বাড়াতে এবং সীমিত সংখ্যক সম্মত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে অপরিহার্য। নতুন নিবন্ধনগুলো কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীর আস্থা জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যবসা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপের অর্থ হল অধিক প্রতিষ্ঠান এখন সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত, ফলে তাদের আর্থিক লেনদেন ও ক্রেডিটযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, ভ্যাট দায়িত্বের সঠিক হিসাব-নিকাশ ও সময়মতো পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয়ও বাড়বে, যা ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
তবে বৃহত্তর ভ্যাট করদাতার গোষ্ঠী গঠন করে সরকারকে আর্থিক সংকটের সময়ে স্বল্পমেয়াদে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। করভিত্তি বিস্তৃত হওয়ায় বাজেট ঘাটতি পূরণে ভ্যাটের অবদান বাড়বে এবং অন্যান্য করের ওপর চাপ কমে যাবে।
ভবিষ্যতে NBR আরও লক্ষ্যভিত্তিক ক্যাম্পেইন চালিয়ে নিবন্ধন হার বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও শিল্পকেন্দ্রিক এলাকায়। তবে নিবন্ধনের পর যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ না করলে অ-অনুগত ব্যবসা পুনরায় বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়ে যাবে। তাই কর ব্যবস্থার কার্যকরী বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।
সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বরের এই নিবন্ধন অভিযান NBR-কে তার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে এবং দেশের করভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে। ভ্যাটের আয় বৃদ্ধি এবং করদাতার সংখ্যা বাড়ার ফলে আর্থিক স্বনির্ভরতা ও বাজারের স্বচ্ছতা উভয়ই উন্নত হবে বলে বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন।



