ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ২ জানুয়ারি শুক্রবারের দৈনিক ভাষণে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। তিনি বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে ৩৪ বছর বয়সী মিখাইলো ফেডোরভকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন। একই দিনে তিনি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (GUR) এর প্রাক্তন প্রধান কিরিলো বুদানভকে নতুন চিফ অব স্টাফের পদে নিয়োগের ঘোষণা দেন।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংগঠন পুনর্গঠন করে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চান। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ফেডোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে স্থাপন করা হবে, যিনি বর্তমানে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। ফেডোরভের বয়স ৩৪ বছর এবং তিনি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নীতি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা সরকারকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
কিরিলো বুদানভের নাম চিফ অব স্টাফের পদে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জেলেনস্কি তার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতার ওপর জোর দেন। বুদানভ পূর্বে জিইউআর (সামরিক গোয়েন্দা) প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার এই অভিজ্ঞতা নতুন চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা নীতি গঠনে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের এক্স (X) পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক আলোচনার দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ক উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পথও এগিয়ে নিতে হবে, যা চলমান সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বুদানভের বিশেষ অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা নিয়ে জেলেনস্কি আরও লিখেছেন, তিনি দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন। এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে নতুন চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে বুদানভের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের পটভূমি এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরিবর্তনের প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে ফেডোরভের ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রণালয়ের কাজ থেকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরিত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ডিজিটাল নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে তার অভিজ্ঞতা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে। সরকার এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখছে।
এই পদবিন্যাস পরিবর্তনগুলো সরকারী কাঠামোর মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয় বাড়াতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদিও সরকার স্পষ্টভাবে কোনো আইনগত প্রক্রিয়া বা পার্লামেন্টের অনুমোদনের কথা উল্লেখ করেনি। জেলেনস্কি ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবগুলোকে সরকারি নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং পরবর্তী ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, জেলেনস্কির এই ঘোষণা ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতি পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পরিবর্তন, ফেডোরভের নতুন দায়িত্ব এবং বুদানভের চিফ অব স্টাফের পদে নিয়োগ দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। ভবিষ্যতে এই পদবিন্যাস পরিবর্তনের বাস্তবায়ন কীভাবে দেশের নিরাপত্তা অবস্থানকে প্রভাবিত করবে তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



