বাংলাদেশ ব্যাংক হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট‑১ এর পরিচালক মো. জবদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার ওয়াহেদুজ্জামান সরদারকে গবেষণা বিভাগের পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রদান করেন। এই পদোন্নতি ব্যাংকের গবেষণা ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ওয়াহেদুজ্জামান সরদার ২০০১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক (গবেষণা) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও ইসলামী অর্থনীতি উপ‑বিভাগে কাজ করে কৃষি ও পল্লী ঋণ, মূল্যস্ফীতি এবং ইসলামি ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গবেষণা পরিচালনা করেন।
২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি এই দুই উপ‑বিভাগে কাজের সময় দেশের গ্রামীণ আর্থিক অবস্থা ও ইসলামি আর্থিক পণ্য সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেন। তার গবেষণা ফলাফলগুলো ব্যাংকের ঋণ নীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রাখে।
২০০৫ সালে তিনি মনিটারি পলিসি ডিপার্টমেন্টে বদলী পান এবং পরবর্তী অষ্টাদশ বছর ধরে ওপেন মার্কেট অপারেশন ও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং-এ কাজ করেন। এই সময়ে তিনি বাজারে লিকুইডিটি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ওয়াহেদুজ্জামানের গবেষণা অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ নয়, তিনি দেশি ও বিদেশি জার্নালে মোট পনেরোটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এসব প্রবন্ধে জিডিপি, মুদ্রানীতি, ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, ইসলামী অর্থনীতি, ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি ঋণ এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন আর্থিক বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশেষত তিনি সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, কৃষি ঋণ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ভোক্তা ঋণ সংক্রান্ত গবেষণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এসব গবেষণা ব্যাংকের ঋণ নীতি, গ্রাহক সেবা এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্সের উন্নয়নে তথ্যভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
গবেষণা পরিচালক পদে তার নতুন দায়িত্ব ব্যাংকের নীতি প্রণয়নে গবেষণার গুরুত্ব বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তার দীর্ঘমেয়াদী ওপেন মার্কেট অভিজ্ঞতা লিকুইডিটি ব্যবস্থাপনা ও সুদের হার নির্ধারণে আরও সূক্ষ্ম পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ওয়াহেদুজ্জামানের নেতৃত্বে গবেষণা বিভাগ আর্থিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণকে ত্বরান্বিত করবে, যা বন্ড বাজার, মুদ্রা বাজার এবং ব্যাংকিং সেক্টরের স্বল্পমেয়াদী দিকনির্দেশনা গঠনে প্রভাব ফেলবে।
ভবিষ্যতে তার গবেষণা পটভূমি ডিজিটাল ফাইন্যান্স, বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ও ফিনটেক সমাধানকে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা বাড়াবে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে।
তবে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ খাতে ক্রেডিটের অতিরিক্ত বিস্তার রিস্কও রয়েছে। ওয়াহেদুজ্জামানের অভিজ্ঞতা এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে নীতি গঠনে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, গবেষণা পরিচালক পদে ওয়াহেদুজ্জামান সরদারের পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা সক্ষমতা ও নীতি নির্ধারণের গুণগত মানকে উন্নত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তার বিশাল অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত গবেষণা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বাজারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



