যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যাল-এ জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলা সরকারে বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে এবং দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে দেশের সীমা পেরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘোষণায় ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, অভিযানের লক্ষ্য ছিল মাদুরোর শাসনকে দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্পের পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযানের পর মাদুরো ও তার সঙ্গিনীকে আকাশ পথে ভেনেজুয়েলার বাইরে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ভেনেজুয়েলা নীতি ও মানবাধিকার উদ্বেগের ধারাবাহিকতা। পোস্টটি শেয়ার করার পর দ্রুত লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী তা দেখেছেন।
বিবরণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি বৃহৎ দল ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণকে ট্রাম্প ‘বড় ধরনের সামরিক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।
অভিযানের পরপরই মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে নেওয়া হয়। সূত্র অনুযায়ী, তাদেরকে বিশেষ নিরাপত্তা গার্ডের তত্ত্বাবধানে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কোনো আইনি প্রক্রিয়া না দিয়ে সরাসরি বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ধাপটি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দম্পতিকে বিমান দ্বারা ভেনেজুয়েলার সীমা পেরিয়ে অন্য কোনো দেশে পাঠানো হয়। ট্রাম্পের বিবরণে উল্লেখ আছে যে, তাদেরকে আকাশ পথে নিরাপদে বহন করা হয়েছে এবং এখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদুরোর শাসনকে আরেকটি বড় আঘাত দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এই অভিযানকে সফল বলে ঘোষণা করেছে এবং বলেছে যে, এটি ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবৈধ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
মাদুরো শাসনকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা ও নিষেধাজ্ঞার মুখে রাখা হয়েছে। তার সরকারকে স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচনা পেয়েছে। এই পটভূমিতে ট্রাম্পের ঘোষণাটি একটি নতুন মোড়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী ঘোষণায় মাদুরোর বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সময়ে ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছিল যে, ভেনেজুয়েলার শাসনকে পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান ঘোষণাটি সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার সরকার থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশের অভ্যন্তরে তথ্যের অভাবের কারণে মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারছেন না। সরকারী সূত্র থেকে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার ফলে ল্যাটিন আমেরিকায় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এখনো এই উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে যে, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এই ঘটনার ওপর নির্ভরশীল হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু বলা যায়নি, তবে ট্রাম্পের পোস্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মাদুরোর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে আরও নীতি নির্ধারণ করা হবে। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক কৌশলকে শক্তিশালী করতে চায় এবং ভেনেজুয়েলার শাসনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আনতে চায়।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত বিবৃতি ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর গ্রেপ্তার ও বহির্গমনকে নিশ্চিত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ভেনেজুয়েলা নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নজরে থাকবে।



