মাদারীপুরের সদর উপজেলার দুইশতাধিক বিদ্যালয়ের ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর মোট ২৩৭ শিক্ষার্থী জৈনদ্দিন মোড়ল স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শনিবার, ৩ জানুয়ারি, সকাল দশটায় চরমগুগরিয়া মার্চেন্টস বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এই পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নিয়মিত পড়াশোনায় আগ্রহ জাগানো এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তোলা। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বিদ্যালয়গুলো থেকে নির্বাচিত হয়ে একত্রিত হয়, যা এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজনের পেছনে রয়েছে জৈনদ্দিন মোড়ল স্মৃতি পাঠাগার, যা শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এই সংস্থা পূর্বে রাস্তি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুরূপ উদ্যোগ চালিয়েছে, ফলে এইবারের পরীক্ষা আরও বিস্তৃত পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
পরীক্ষার মূল অংশ ছিল এক নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, যা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রটি ১০১ নম্বরের শিরোনামে প্রকাশিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা যাচাই করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালীন পরিবেশটি উৎসবমুখর ছিল; শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকরা উল্লাসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এই ধরনের উদযাপনমূলক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা। পাশাপাশি, মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহানও উপস্থিত ছিলেন, যা স্থানীয় নেতৃত্বের সমর্থনকে নির্দেশ করে।
শাহ আলম, যিনি জৈনদ্দিন মোড়ল স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সাধারণ সম্পাদক, উল্লেখ করেন যে এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং নিয়মিত পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ জাগানোই মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, পূর্বে রাস্তি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ধরণের পরীক্ষা সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
মো. ইব্রাহিম মিয়া, পাঠাগারের সভাপতি, উল্লেখ করেন যে বেসরকারিভাবে পরিচালিত এই পরীক্ষা শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ফলাফল জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও জানান, ফলাফল প্রকাশের পর বৃত্তি প্রদান প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, যা তাদের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়াবে। বৃত্তি পেলে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত পাঠ্যবই, শিক্ষাসামগ্রী এবং টিউশন ফি ইত্যাদি খরচ কমাতে পারবে।
স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা করেন, এধরনের বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার প্রতি সমাজের মনোযোগ বাড়াবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, পরীক্ষার আগে নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের উপর ভিত্তি করে রিভিউ সেশন চালানো এবং পূর্বের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করা। সময়মত বিশ্রাম ও সঠিক খাবার গ্রহণও ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করবে।
এই ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার সমতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ প্রদান করে। ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এই উদ্যোগের প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
আপনার সন্তান যদি এই ধরণের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়, তবে স্থানীয় বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেওয়া হয়।



