শুক্রবার সন্ধ্যা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ‑চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ত্রিশতম সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মেলাটিকে দেশের বাণিজ্যিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং এটিকে কেবল পণ্যের প্রদর্শনী নয়, নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির মঞ্চ হিসেবে বর্ণনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং এই মেলাটির মূল লক্ষ্য হল রপ্তানি পণ্যের মানোন্নয়ন, পণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা। এসব কৌশল টেকসই অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, মেলাটির মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয় এবং বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের ইতিবাচক ধারণা গড়ে ওঠে। মেলা উৎপাদককে ভোক্তার সঙ্গে, উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তি‑চালিত পণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত পণ্যশ্রেণী এখানে উপস্থাপিত হয়, যা দেশের উৎপাদন সক্ষমতার বহুমুখিকতা প্রদর্শন করে।
শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, এলডিসি (Least Developed Countries) গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রগতি বজায় রাখতে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই ভেন্যুতে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’ শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। এই ইভেন্টে দেশীয় ও বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি এবং আমদানিকর্তা সমাবেশ করে, যা বাংলাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার ব্যাপক পরিচিতি প্রদান করবে।
উদ্যোক্তারা মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, এবং বিনিয়োগকারীরা দেশীয় উৎপাদন চেইনের সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। মেলাটির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হলে, প্রতি বছর একাধিকবার এমন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি পরিমাণ বৃদ্ধি, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মেলার এই বৃহৎ আয়োজনে স্থানীয় শিল্প সংস্থা, বাণিজ্য সংস্থা এবং সরকারী দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। মেলাটির আয়োজক সংস্থা ভবিষ্যতে একই ধরণের আন্তর্জাতিক ফেয়ার এবং সেমিনার চালিয়ে যাবে, যাতে দেশীয় উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকরা বিশ্ববাজারের চাহিদা ও প্রবণতা সম্পর্কে আপডেটেড তথ্য পেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ত্রিশতম সংস্করণ দেশের বাণিজ্যিক পরিসরকে প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেলাটির মাধ্যমে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পাবে, নতুন বাজারের দরজা খুলে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আগমন ত্বরান্বিত হবে। এই ধারাবাহিক উদ্যোগগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



