মুন্সিগঞ্জের ডেপুটি কমিশনারের অফিসে আজ বিদেশি বিষয়ক উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন জানান যে, শারিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়ে নিতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলায় ন্যায়বিচার দ্রুত করা সম্ভব নয়, তবে অভিযুক্তকে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শারিফ ওসমান হাদি, যিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, গত বছর রাতে অচেনা ব্যক্তিদের হাতে গুলি করে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে, তবে মূল অভিযুক্তের অবস্থান এখনও অজানা।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, গৃহ মন্ত্রণালয়ও এখনো তার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।
তদন্তকারী দল জিজ্ঞাসাবাদে কিছু সূত্র পেয়েছে যে, অভিযুক্ত সীমান্ত পার করে অন্য দেশে গিয়ে থাকতে পারে। তবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন করা সম্ভব নয়।
অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হলে, বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। তৌহিদ হোসেন জানান, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ইতিমধ্যে চালু রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
অভিযুক্তের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হলে, তাকে দেশের আদালতে উপস্থিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফৌজদারি মামলাগুলি সময়সীমা নির্ধারিত নয় এবং আদালতের অধীনে চলবে।
সরকার ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তা শীঘ্রই আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তৌহিদ হোসেন বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি আরও যোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না এবং ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
একই সময়ে, তৌহিদ হোসেন দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং নির্বাচনের বিষয়ে কোনো বহিরাগত চাপের প্রয়োজন নেই।
সরকারের লক্ষ্য হল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন করা হবে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া এবং ভারতের সঙ্গে সমন্বয় প্রক্রিয়া দু’ই চলমান। তৌহিদ হোসেনের মতে, এই দুইটি ধাপ সম্পন্ন হলে শারিফ ওসমান হাদি মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মামলাটির পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালতের রায়, অভিযোগপত্রের দাখিল এবং অভিযুক্তের প্রত্যাবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকার এই সব প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



