28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকভেনেজুয়েলায় মার্কিন নির্দেশিত হামলা, কারাকাসসহ বহু প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন নির্দেশিত হামলা, কারাকাসসহ বহু প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি

৩ জানুয়ারি শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, একই সময়ে শহরের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই ঘটনাগুলি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে তীব্রতর করে তুলেছে এবং সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

বিবিসি লাইভ প্রতিবেদনের অনুসারে, কারাকাসের অন্তত সাতটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ রেকর্ড করা হয়েছে। সিবিএস নিউজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমান ও নৌবাহিনীর ইউনিট দ্রুত কাজ শুরু করেছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই আক্রমণকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বে রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুইয়ারা প্রদেশেও একই রকম আক্রমণ ঘটেছে। ফলে, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে এবং কিছু এলাকায় অস্থায়ী ব্ল্যাকআউট হয়েছে।

মাদুরো সরকার জরুরি অবস্থা প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর মোবিলাইজেশন বাড়িয়ে তুলেছে এবং নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি অতিরিক্ত ক্ষমতা পাবে এবং জরুরি সেবা দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈদ্যুতিক বিভ্রাটের পাশাপাশি, শহরের আকাশে অজানা বিমান চলাচলের রিপোর্টও পাওয়া গেছে। কিছু সূত্রে বলা হয়েছে, এই বিমানগুলো সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিমান চলাচল ও বিস্ফোরণ একসাথে ঘটায়, নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্কের মাত্রা বাড়ে।

এই ঘটনা ঘটে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী স্পিডবোট ব্যবহার করে সামরিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই আক্রমণগুলো ভেনেজুয়েলার সমুদ্রসীমা পার হয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রমের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মাদুরোকে অবৈধভাবে নির্বাচিত বলে দাবি করে এবং তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেশের মধ্যে মাদক পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদুরোর শাসনকালে মাদক পাচার ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমেরিকান সমাজে অনুপ্রবেশ ঘটছে। এই ধরনের রেটোরিক্স দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলছে।

একজন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই সংঘাতে জড়িত হতে হতে পারে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো বর্তমানে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা বলছে, কোনো অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের আগে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা জরুরি। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলার সরকারকে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে বিস্ফোরণ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে ত্বরিত সহায়তা পৌঁছাতে পারে।

ভবিষ্যতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেল পুনরায় চালু করা এবং পারস্পরিক অভিযোগের সমাধানের জন্য তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রয়োজন হতে পারে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের রণনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে তা সহজে সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখনই গুরুত্বপূর্ণ হল, সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা, যাতে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের জীবনযাত্রা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments