চেলসি দল রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে প্রবেশ করবে, যেখানে পাঁচজন খেলোয়াড়ের জন্য এই সফর বিশেষ অর্থবহ। তারা সবাই সিটি ক্লাবের একাডেমিতে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং এখন চেলসির শারীরিক রঙে মাঠে নামবেন।
সিটি একাডেমির গর্বিত শিষ্যদের নাম হল টোসিন আদারাবিয়ো, কোল প্যালমার, লিয়াম ডেলাপ, জেমি গিটেনস এবং রোমিও লাভিয়া। এদের প্রত্যেকেরই সিটি যুব দল থেকে উঠে আসার গল্প রয়েছে, এবং এখন তারা চেলসির রঙে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে।
এই তরুণদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশে এনজো মারেস্কা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মারেস্কা সিটি একাডেমির অধীনে কোচিং দায়িত্বে ছিলেন এবং তার তত্ত্বাবধানে এই পাঁচজন খেলোয়াড়ের দক্ষতা শাণিত হয়। মারেস্কা সম্প্রতি চেলসিতে যোগদান করে ত্যাগ করেছেন, তবু তার প্রভাব এখনও দৃশ্যমান।
চেলসির অস্থায়ী প্রধান কোচ ক্যালাম ম্যাকফার্লেনের সিটি সঙ্গে অতীত সংযোগ রয়েছে। তিনি পূর্বে সিটির আন্ডার-১৮ দলকে সহায়তা করতেন, ফলে দুই ক্লাবের মধ্যে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও তত্ত্বের বিনিময় সহজ হয়েছে।
কোল প্যালমার ও লিয়াম ডেলাপ ২০২০ সালে সিটি যুব দলকে এফএ যুব কাপ জিততে সাহায্য করেন। চূড়ান্ত ম্যাচে তারা চেলসিকে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করেন, যেখানে মর্গান রজার্স, টেলর হারউড‑বেলিস, অস্কার বব এবং জেমস ম্যাকটি সহ অন্যান্য তরুণ প্রতিভা ছিলেন।
প্রাক্তন সিটি সহকর্মী বেন নাইটের মন্তব্যে দেখা যায়, “আমাদের দলে এত অসাধারণ খেলোয়াড় ছিল যে জয় নিশ্চিত মনে হতো। যুব কাপ জয়ের পর আমরা আন্ডার‑২৩ দলে এক শ্বাসে শ্বাসে খেলা চালিয়ে গিয়েছিলাম, এমনকি পুরুষ দলের টুর্নামেন্টেও আমরা অপ্রতিরোধ্য ছিলাম।” এই উক্তি দলীয় আত্মবিশ্বাসের মাত্রা তুলে ধরে।
টোসিন আদারাবিয়ো ও রোমিও লাভিয়া পেগুয়ানির তত্ত্বাবধানে প্রথম দলে সুযোগ পেয়েছিলেন, আর জেমি গিটেনস রিডিং থেকে সিটিতে স্থানান্তরিত হয়ে দুই বছর ধরে ম্যানচেস্টারে খেলেছেন। তাদের প্রত্যেকেরই সিটি থেকে চেলসিতে যাওয়ার পথে কিছু বাধা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত নতুন পরিবেশে তাদের বিকাশের সুযোগ এনে দেয়।
ম্যানচেস্টার সিটি একাডেমি থেকে সৃষ্ট খেলোয়াড়ের বিক্রয় ক্লাবের আর্থিক মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোল প্যালমারকে চেলসিতে বিক্রি করে ক্লাব একা £৪০ মিলিয়ন আয় করেছে। লাভিয়া, গিটেনস এবং ডেলাপের ক্ষেত্রে বিক্রয়ের পরেও সেল‑অন ক্লজের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত হয়েছে।
চেলসির নিয়োগ বিভাগে অক্টোবর ২০২২ থেকে যোগদান করা জো শিল্ডসেরও সিটি সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সিটিতে হেড অফ রিক্রুটমেন্ট ও ট্যালেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন, ফলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়ের প্রোফাইল সম্পর্কে তার জ্ঞান চেলসির কৌশলগত পরিকল্পনায় সহায়তা করে।
সপ্তাহের শেষের ম্যাচে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি একে অপরের মুখোমুখি হবে, যেখানে এই পাঁচজন একাডেমি শিকড়ের খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তাদের অতীতের সিটি অভিজ্ঞতা ও বর্তমান চেলসির কৌশল কীভাবে মিলে যাবে, তা দর্শকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।



