জী স্টুডিওস ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘গান্ধি টকস’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি থিয়েটারে প্রদর্শনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। আধুনিক ভারতীয় সিনেমায় বিরলভাবে নির্মিত এই নীরব চলচ্চিত্রটি শব্দের বদলে শারীরিক অভিব্যক্তি ও নীরবতার মাধ্যমে গল্প বলার চেষ্টা করবে।
‘গান্ধি টকস’ প্রকল্পে ভিজয় সেঠুপতি, অরবিন্দ স্বামী, আদিতি রাও হাইদারি এবং সিদ্দার্থ জাধব প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করছেন। প্রত্যেক অভিনেতা নীরবতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চরিত্রের অনুভূতি ও ভাবনা প্রকাশে মনোযোগ দিয়েছেন। ভিজয় সেঠুপতি ও অরবিন্দ স্বামীর ক্যারিয়ার জুড়ে তারা প্রায়ই প্রচলিত ধাঁচের বাইরে কাজ বেছে নেয়; এই চলচ্চিত্রে তাদের অংশগ্রহণ তাদের শিল্পের প্রতি নিবেদনকে আরও দৃঢ় করে। আদিতি রাও হাইদারি ও সিদ্দার্থ জাধবও সংলাপের অনুপস্থিতিতে শারীরিক ভাষা ও মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে গভীর আবেগ প্রকাশের চেষ্টা করছেন।
চলচ্চিত্রের সঙ্গীত রচনা করেছেন এ. আর. রহমান, যিনি নীরব দৃশ্যগুলোর সঙ্গে সুরের মাধ্যমে বর্ণনা গড়ে তুলবেন। শব্দের অভাবকে পূরণ করার জন্য তার সুরকে চলচ্চিত্রের ‘কণ্ঠস্বর’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা দর্শকের অনুভূতিকে তীব্র করে তুলবে। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে পারে।
পরিচালক কিশোর বেলেকর চলচ্চিত্রের মূল ধারণা সম্পর্কে বলেন, তিনি নীরবতাকে গল্পের সবচেয়ে মৌলিক উপাদান হিসেবে দেখেন এবং ভারতীয় সিনেমার শতবর্ষী ঐতিহ্যের মধ্যে ফিরে এসে শুদ্ধ পারফরম্যান্স ও আবেগের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অভিনেতারা এই নীরবতার চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানিয়ে পুরোপুরি নিজেদেরকে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করেছেন, আর এ. আর. রহমানের সুরই চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে সমর্থন করবে।
জী স্টুডিওসের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত পোস্টে চলচ্চিত্রের পোস্টার ও প্রধান কাস্টের ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পে মীরা চোপড়ার সমর্থনও রয়েছে, যদিও তার নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
‘গান্ধি টকস’ আধুনিক সময়ে নীরব চলচ্চিত্রের পুনর্জাগরণ ঘটাতে চায়, যেখানে শব্দের পরিবর্তে সঙ্গীত ও শারীরিক অভিনয়ই প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে এবং দর্শকদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের প্রি-প্রোডাকশন কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং শুটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে সাউন্ডট্র্যাক ও এডিটিং কাজ চলছে, যা নির্ধারিত মুক্তির তারিখের আগে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘গান্ধি টকস’ একটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে নীরবতা ও সঙ্গীতের সমন্বয় একটি নতুন বর্ণনামূলক কাঠামো গড়ে তুলবে। চলচ্চিত্রটি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে এবং নীরবতার মাধ্যমে মানবিক অনুভূতির গভীরতা প্রকাশের চেষ্টা করবে।
এই প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করবে অভিনেতাদের শারীরিক অভিব্যক্তি, সুরের গুণমান এবং পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গির সঠিক সমন্বয়ের ওপর। যদি এই উপাদানগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে, তবে ‘গান্ধি টকস’ আধুনিক সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নীরব চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
যে কোনো চলচ্চিত্রের মতোই, ‘গান্ধি টকস’ দর্শকদের কাছ থেকে সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া পাবে, তবে এর অনন্য ধারণা ও উচ্চমানের কাস্টের সমন্বয় এটিকে বিশেষ করে তুলবে। চলচ্চিত্রের মুক্তি তারিখের কাছাকাছি আরও তথ্য প্রকাশিত হবে, যা দর্শকদের জন্য অপেক্ষার সময়কে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।



