শুক্রবার রাতের পর থেকে নওগাঁ জেলায় তীব্র শীত এবং ঘন কুয়াশা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল ৯ টায় বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মিজানুর রহমান জানান, রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাত্র ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
কুয়াশা এবং শৈত্যপ্রবাহের সংমিশ্রণ জেলাটিকে অন্ধকারে ডুবে রাখে, ফলে সূর্যালোকে দেখা যায় না। ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা হ্রাস পায়, যা বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার লক্ষণ দেখা গেছে।
শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে অনেক পরিবার ঘরে আটকে আছে, তবে জীবিকার তাগিদে কর্মজীবী মানুষগুলোকে ঘরে থেকে বের হতে হচ্ছে। রাস্তায় চলাচলকারী বাস, ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে, যাতে দৃশ্যমানতা বজায় থাকে।
শহরের রিকশা চালক এবং অন্যান্য ছোটগাড়ি চালকদের জন্য শীতের প্রভাব বিশেষভাবে কঠিন। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় গাড়ি চালানো শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে দাঁড়ায়, ফলে আয় প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
কৃষি ক্ষেত্রেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। ঘন কুয়াশা বোরো ধানের বীজতলায় লালচে রঙের পরিবর্তন ঘটিয়ে তুলেছে, যা বীজের গুণগত মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় কৃষক পলাশ মণ্ডল উল্লেখ করেন, কুয়াশা না কমলে বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর জেলায় মোট ১,৯২,৩৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮,৩৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে শীতের তীব্রতা এবং কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষার জন্য পলিথিনে মোড়ানো এবং রাতের সময় পানিতে ডুবিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বীজতলায় ক্ষতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তদুপরি, কৃষি কর্মকর্তারা শীতের মাঝামাঝি সময়ে বোরো ধান রোপন না করার পরামর্শও দিচ্ছেন, যাতে চাষের সময়সূচি কিছুটা বিলম্বিত হয় এবং ফসলের ক্ষতি কমে।
শীতের প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষত শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হাইপোথার্মিয়া এবং রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে গরম পানীয়, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সঠিক পোষাকের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শীতের এই কঠিন সময়ে বাসিন্দাদের জন্য কিছু মৌলিক সতর্কতা উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, ঘরে পর্যাপ্ত উষ্ণতা বজায় রাখতে হিটার বা গরম পানির ব্যবহার করা উচিত। দ্বিতীয়ত, বাইরে বের হওয়ার সময় গরম কোট, টুপি, গ্লাভস এবং স্কার্ফ পরিধান করা জরুরি। তৃতীয়ত, শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অতিরিক্ত শীতের সংস্পর্শে না আসার চেষ্টা করবেন এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
শীতের তীব্রতা কমে না আসা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে জরুরি সেবা ও তথ্য সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাসিন্দাদেরও পারস্পরিক সহযোগিতা করে একে অপরকে সহায়তা করা উচিত, যাতে এই কঠিন শীতকালকে নিরাপদে পার করা যায়।



