ঢাকা-৯ নির্বাচনী এলাকায় স্বাধীন প্রার্থী তাসনিম জারা কর্তৃক জমা দেওয়া মনোনয়ন পত্রগুলো নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার পর্যালোচনার পর স্থগিত করা হয়েছে। পত্রের বৈধতা যাচাইয়ের সময় কিছু স্বাক্ষরের ভোটারত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে প্রার্থী এখন আপিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
রিটার্নিং অফিসার পত্রগুলোকে অস্থায়ীভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। পত্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ভোটার স্বাক্ষরের সংখ্যা পূরণ না হওয়া বা অযথা স্বাক্ষর পাওয়া গেলে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তাসনিম জারা আজ জানিয়েছেন যে তিনি ইতিমধ্যে আপিলের জন্য আবেদন করেছেন এবং প্রক্রিয়া চলমান। তিনি বলেন, “আমি স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি, তবে এখনো তা গৃহীত হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আপিল করব, এবং প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।”
স্বাধীন প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, প্রার্থীর প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যার এক শতাংশের সমান স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। এই শর্ত পূরণ না হলে মনোনয়ন পত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে পারে।
তাসনিম জারা দাবি করেন, তিনি প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের চেয়ে প্রায় দুইশোটি অতিরিক্ত স্বাক্ষরও সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। এই অতিরিক্ত স্বাক্ষরগুলো মূলত ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় কিছু অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দেয়।
নির্বাচনী কমিশন র্যান্ডমভাবে দশজন স্বাক্ষরকারীকে নির্বাচন করে তাদের ভোটারত্ব যাচাই করে। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় আটজন স্বাক্ষরকারীকে সঠিক ভোটার হিসেবে নিশ্চিত করা হয়, তবে দুইজনের ভোটারত্ব নিয়ে সন্দেহ উত্থাপিত হয়।
অবৈধ স্বাক্ষরকারী দুইজনের মধ্যে একজনের বাসস্থান খিলগাঁওয়ে, যা ঢাকা-৯ নির্বাচনী এলাকার বাইরে। অন্যজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত ঠিকানাও ঢাকা-৯ এলাকার সীমার বাইরে। ফলে এই দুই স্বাক্ষরকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়।
তাসনিম জারা বলেন, “এই দুই স্বাক্ষরকারী ঢাকা-৯ এলাকার ভোটার নয়, তা আমরা জানার কোনো উপায় পায়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য স্বাক্ষরকারীর ভোটারত্ব যাচাইয়ের কোনো সরঞ্জাম সরবরাহ করেনি।
এই পরিস্থিতিতে প্রার্থী আপিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আপিল প্রক্রিয়ার ফলাফল অনুকূল হবে। স্বাধীন প্রার্থীদের জন্য এই ধরনের বাধা প্রায়ই দেখা যায়, তবে তিনি জনগণের সমর্থনকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেন।
প্রার্থী তাসনিম জারা বলেন, “স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই আছে, তবে মানুষের সমর্থন আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যায়।” তিনি তার প্রচারাভিযানকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
আসন্ন আপিলের ফলাফল ঢাকা-৯ নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আপিল স্বীকৃত হয়, তবে স্বাধীন প্রার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে এবং অন্যান্য স্বাধীন প্রার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
অন্যদিকে, আপিল প্রত্যাখ্যান হলে স্বাধীন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী সংস্কারের আলোচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাসনিম জারার দল এখন এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



