বলিউডের নতুন গথিক থ্রিলার ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোয়ান্টস’‑এর কাস্ট ঘোষণায় দেখা গেল, তরুণী অভিনেত্রী তারা সুতারিয়া রেবেকা নামের চরিত্রে যোগ দিচ্ছেন। ছবিটি পরিচালক গীটু মোহনদাসের নেতৃত্বে, যিনি সহ-লেখক হিসেবে ইয়াশের সঙ্গে কাজ করছেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বে প্রকাশিত কিয়ারা অদ্বানী (নাদিয়া), হুমা কুরেশি (এলিজাবেথ) ও নায়ানথারা (গঙ্গা)‑এর ভূমিকাও পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল, যা ছবির বিস্তৃত এবং অন্ধকারময় জগৎকে ইঙ্গিত করে।
রেবেকা চরিত্রটি বর্ণনা করা হয়েছে আকর্ষণীয়, রহস্যময় এবং আবেগগতভাবে রক্ষিত হিসেবে। তার স্বভাবের মধ্যে ভঙ্গুরতা ও কর্তৃত্বের মিশ্রণ রয়েছে, যা তাকে একদিকে নরম ও অন্যদিকে দৃঢ় করে তোলে। প্রথম লুক পোস্টারে রেবেকা স্বর্ণময় কিন্তু অস্বস্তিকর পটভূমিতে একটি বন্দুক হাতে দেখা যায়, যা তার স্ব-সুরক্ষা ও ক্ষমতার স্বভাবকে প্রকাশ করে। ছবির ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে রেবেকা স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, যেন তা তার বেঁচে থাকার reflex।
তারা সুতারিয়ার জন্য ‘টক্সিক’ তার প্রথম প্যান-ইন্ডিয়া প্রকল্প, যা তার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। পূর্বে তিনি মূলত পরিশীলিত ও শোভন চরিত্রে পরিচিত ছিলেন, তবে এই ছবিতে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কঠোর ও তীব্র পরিবেশে প্রবেশ করছেন। এই পরিবর্তন তার শিল্পী হিসেবে পরিপক্কতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
পরিচালক গীটু মোহনদাস রেবেকা চরিত্রের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু ধারণা শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারা সুতারিয়ার সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি স্বাভাবিকভাবে তার রক্ষা করার প্রবৃত্তি অনুভব করেন, হয়তো তার রক্ষিত স্বভাবের কারণে অথবা তার স্ব-সুরক্ষার বর্মের জন্য। গীটু বলেন, তিনি রেবেকাকে জোর করে না ঠেলেছেন, বরং তাকে নিজের স্বভাব প্রকাশের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা দিয়েছেন। এই পদ্ধতি তাদের কাজের পরিবেশকে শান্ত, পেশাদার এবং সমন্বিত করে তুলেছে।
গীটু আরও জানান, তারা সুতারিয়া বেশি কথা না বলে বেশি শোনেন, এবং তার নীরবতা থেকে শক্তিশালী কিছু উদ্ভব হয়। যখন তিনি অবশেষে পারফরম্যান্সে প্রবেশ করেন, তখন তার প্রকাশিত শক্তি ও সূক্ষ্মতা দর্শকদের কাছে নতুন মাত্রা নিয়ে আসে। এই অভিজ্ঞতা গীটুকে নিশ্চিত করেছে যে, রেবেকা চরিত্রের জন্য তার স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধা না দিয়ে কাজ করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোয়ান্টস’ একটি বৃহৎ স্কেলের প্রকল্প, যেখানে প্রতিটি চরিত্রের পরিচয় ধীরে ধীরে প্রকাশিত হচ্ছে। কিয়ারা অদ্বানী, হুমা কুরেশি ও নায়ানথারা ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব ভূমিকা নিয়ে দর্শকদের কল্পনা জাগিয়ে তুলেছেন। রেবেকা চরিত্রের যোগদানের মাধ্যমে ছবির কাহিনী আরও জটিল ও স্তরবদ্ধ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফিল্মের প্রথম লুক পোস্টারটি গৌরবময় সোনালী রঙে সাজানো, তবে তাতে অস্বস্তিকর ছায়া ও গাঢ় টোনের মিশ্রণ রয়েছে, যা ছবির গথিক ও ফ্যান্টাসি উপাদানকে তুলে ধরে। রেবেকা বন্দুকটি স্বাভাবিকভাবে ধরে আছে, যা তার আত্মরক্ষার স্বভাবকে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে। এই ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দর্শকদের মধ্যে চরিত্রের গভীরতা ও দ্বৈততা সম্পর্কে আগ্রহ জাগায়।
তারা সুতারিয়ার ক্যারিয়ার পরিবর্তনের এই মুহূর্তটি শিল্পের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তার পূর্বের কাজগুলোতে তিনি প্রায়শই রোমান্টিক ও হালকা-ফুলকা চরিত্রে দেখা গিয়েছেন, তবে এখন তিনি একটি কঠোর, অন্ধকারময় এবং জটিল চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করছেন। এই রূপান্তর তার অভিনয় দক্ষতার বহুমুখিতা এবং নতুন দিগন্তের সন্ধানকে নির্দেশ করে।
‘টক্সিক’ ছবির নির্মাণে গীটু মোহনদাসের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট, তিনি চরিত্রগুলোকে স্বতন্ত্র ও স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে দেন, যাতে দর্শকরা তাদের মানবিক দিকটি অনুভব করতে পারে। তিনি বলেন, রেবেকা চরিত্রের জন্য তিনি অতিরিক্ত নির্দেশনা না দিয়ে তার স্বাভাবিক প্রবাহকে সম্মান করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত একটি প্রামাণিক পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোয়ান্টস’ শীঘ্রই বড় পর্দায় আসবে এবং দর্শকদের জন্য একটি নতুন ধরণের গথিক ফ্যান্টাসি উপস্থাপন করবে। রেবেকা চরিত্রের সঙ্গে তারা সুতারিয়ার যোগদান ছবির সামগ্রিক টোনকে আরও গাঢ় ও তীব্র করে তুলবে বলে আশা করা যায়।
এই ঘোষণার পর থেকে ফিল্মের অন্যান্য দিকগুলোও ধীরে ধীরে প্রকাশিত হচ্ছে, যা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক কাঠামো ও থিমকে স্পষ্ট করে তুলছে। রেবেকা, নাদিয়া, এলিজাবেথ ও গঙ্গা—এই চারটি মূল চরিত্রের পারস্পরিক ক্রিয়া কীভাবে গল্পকে এগিয়ে নেবে, তা নিয়ে দর্শক ও সমালোচকরা আগ্রহী।
সারসংক্ষেপে, তারা সুতারিয়া ‘টক্সিক’ ছবিতে রেবেকা চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করছেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। গীটু মোহনদাসের পরিচালনায় এই চরিত্রটি স্বতন্ত্রতা, রক্ষিত স্বভাব এবং স্ব-সুরক্ষার মিশ্রণে গড়ে উঠেছে। ছবির প্রথম লুক ও চরিত্রের পরিচয় ইতিমধ্যে দর্শকদের কল্পনা জাগিয়ে তুলেছে, এবং শীঘ্রই বড় পর্দায় এই গথিক ফ্যান্টাসি উপস্থাপিত হবে।



