কারাকাসে শনিবার রাত ২ টার কাছাকাছি (০৬০০ GMT) হঠাৎ করে উচ্চস্বরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, সঙ্গে বিমান উড়ার মতো গর্জনও শোনা যায়। এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার রাজধানীর উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় ঘটেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ আতঙ্কিত হয়।
বিস্ফোরণের শব্দ প্রায় ২:১৫ টায়ও শোনা যায়, তবে সুনির্দিষ্ট স্থান এখনও স্পষ্ট নয়। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, শব্দের উৎস কোনো সামরিক ঘাঁটি বা বন্দর নয়, বরং অজানা কোনো স্থানে ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র একটি নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্স ক্যারিবিয়ানে পাঠিয়েছে এবং ভেনেজুয়েলায় মাটিতে আক্রমণের সম্ভাবনা উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলীয় ড্রাগ বোটের ডকিং এলাকা ধ্বংস করেছে, যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি এটি সামরিক অপারেশন নাকি সিআইএয়ের কাজ।
ট্রাম্পের বিবরণে আক্রমণটি “কিনার পাশে” ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই আক্রমণ ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত মাটিতে আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই ঘটনার বিষয়ে কোনো নিশ্চিতিকরণ বা অস্বীকার করেননি, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত। মাদুরো বৃহস্পতিবারের এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপে তিনি আলোচনার দরজা খুলে রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন মাদুরোকে মাদক কার্টেলের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করে এবং ভেনেজুয়েলার তেল রিজার্ভের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় বলে দাবি করে। মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ভেনেজুয়েলাকে উৎখাত করা, কারণ দেশটির পৃথিবীর বৃহত্তম তেল রিজার্ভ রয়েছে, এটাই তার যুক্তি।
ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়াতে ইতিমধ্যে দেশের বায়ুমণ্ডলকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ভেনেজুয়েলীয় তেলভরা ট্যাঙ্কার জব্দের আদেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ট্রাম্পের পূর্বে বহুবার তিনি অঞ্চলে মাদক কার্টেলের ওপর মাটিতে আক্রমণ করার হুমকি দিয়েছেন এবং “শীঘ্রই” এই আক্রমণ শুরু হবে বলে ইঙ্গিত করেছেন। সোমবারের এই ঘটনা তার প্রথম স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বর মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ড্রাগ চোরদের লক্ষ্য করে বহু আক্রমণ চালিয়েছে। তবে এই আক্রমণগুলোতে লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলো মাদক পাচারকারী কিনা তা প্রমাণ করার জন্য কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা আন্তর্জাতিক আইনি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অভিযানগুলোতে অন্তত ১০৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং কমপক্ষে ৩০টি আক্রমণে প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা যায়। এই সংখ্যাগুলো মানবিক দিক থেকে বড় উদ্বেগের কারণ, বিশেষ করে যখন লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি তৈরি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক উত্থাপন করে। তারা বলেন, যদি প্রমাণ না থাকে তবে এমন অপারেশনগুলোকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংস্থার নজরে আনা হতে পারে।
ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সরকার আন্তর্জাতিক সমর্থন খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, আর যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে দু’দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে কী ধরনের আলোচনার সূচনা হবে, তা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।



