বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) কোলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেএকেআর) জানিয়েছে যে, দলটি আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে মুক্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনে নতুন খেলোয়াড়ের আবেদন করতে পারবে।
বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবাজিত সাইকিয়া শনিবার পিটিআইকে জানিয়েছেন, দলটি যদি প্রতিস্থাপন চায় তবে বোর্ড তা অনুমোদন করবে। এই সিদ্ধান্তটি আইপিএল মৌসুমের শুরুর আগে নেওয়া হয়েছে।
মুস্তাফিজুরকে কেএকেআর আইপিএল মিনি-অকশনে ৯.২০ কোটি রুপি মূল্যে অর্জন করেছিল। তার অন্তর্ভুক্তি দলটির জন্য বড় আকর্ষণীয় দিক ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপ বাড়ছে।
বহু ডানপন্থী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন মুস্তাফিজুরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে। এই উদ্বেগের ফলে দলটির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
দুই দিন আগে, ভারতের শাসন দলীয় বিজেপির নেতা সঙ্গীত সোম কেএকেআরের মালিক শারুখ খানকে মুস্তাফিজুর কেনার জন্য ‘দেশদ্রোহী’ বলে অভিযুক্ত করেন। এই মন্তব্য দলটির সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ধর্মীয় নেতা দেবকিনন্দন ঠাকুরও শারুখ খানের এই পদক্ষেপকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন, বলছেন যে বাংলাদেশি পেসারকে অন্তর্ভুক্ত করা অনুপযুক্ত। উভয় মন্তব্যই মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বিসিসিআইয়ের এই নির্দেশনা আইপিএলের শুরুর আগে প্রকাশিত হওয়ায় কেএকেআরের জন্য সময়সীমা সংকীর্ণ। দলটি এখন দ্রুত বিকল্প খেলোয়াড়ের সন্ধান নিতে পারে অথবা খালি স্লট রেখে দিতে পারে।
বিসিসিআই স্পষ্ট করে বলেছে, কেএকেআর যদি নতুন খেলোয়াড়ের আবেদন করে তবে তা অনুমোদন করা হবে, ফলে দলটির গঠন পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
এই ঘটনা ক্রীড়া ও রাজনীতির সংযোগকে আবারও উন্মোচন করেছে, যেখানে খেলোয়াড়ের নির্বাচন রাজনৈতিক মতবাদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত কেএকেআর বা মুস্তাফিজুরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো প্রকাশ না করায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
আইপিএলের সময়সূচি অপরিবর্তিত রয়েছে; বিভিন্ন শহরে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং দর্শকরা শীঘ্রই স্টেডিয়ামে উপস্থিত হবে।
ফ্যান এবং বিশ্লেষকরা এখন কেএকেআরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর দিচ্ছেন, বিশেষ করে দলটি কীভাবে তার স্কোয়াড সম্পূর্ণ করবে তা নিয়ে।
বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাহ্যিক চাপের ফলে দলীয় গঠন পরিবর্তন করা হলে তা নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত হবে।
পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কেএকেআর নতুন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামবে কিনা, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে এবং আইপিএলের উত্তেজনা বাড়বে।



