ঢাকা শহরে আগামী সংসদ নির্বাচনের তীব্রতা বাড়ছে; মঙ্গলবার তিনটি প্রধান দলের (বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) শীর্ষ নেতারা তাদের প্রার্থিতা পত্র দাখিল করেছেন। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রধান নেতারা একসাথে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশের মাধ্যমে ঢাকার ২০টি নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন। তাদের উপস্থিতি শহরের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন গতিপথ তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি, জামায়াত‑ই‑ইসলামি ছাড়াও বাংলাদেশ খলাফত মজলিস, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী শ্রমিক পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের প্রধানদেরও প্রার্থিতা পত্র জমা হয়েছে। ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের নেতা সাম্প্রতিককালে নিজের দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করে প্রার্থী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
এছাড়াও অন্যান্য দলের জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, একাধিক নিখোঁজের শিকার, প্রাক্তন জাতীয় ফুটবল খেলোয়াড় এবং নিখোঁজের বিরুদ্ধে লড়াইকারী একজন বিশিষ্ট কর্মীও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই বৈচিত্র্যময় প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটারদের পছন্দের পরিসরকে বিস্তৃত করবে।
স্বাধীনভাবে দৌড়ে অংশ নিতে ইচ্ছুক বিশিষ্ট স্বাধীন প্রার্থীরাও একাধিক নির্বাচনী এলাকায় নাম নথিভুক্ত করেছেন, যা নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে।
মোট ২৩৮ জন প্রার্থি ঢাকার ২০টি নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রার্থিতা পত্র দাখিল করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা শহরের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।
বিএনপি মোট ১৯ জন প্রার্থি দাখিল করেছে, যার মধ্যে পার্টির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমান (ঢাকা‑১৭) অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া পার্টি বিপ্লবী শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে (ঢাকা‑১২) সমর্থন জানিয়েছে।
জামায়াত‑ই‑ইসলামি ১৭ জন প্রার্থি দাখিল করেছে, যার মধ্যে আমীর শফিকুর রহমান (ঢাকা‑১৫) অন্তর্ভুক্ত। এই প্রার্থীরা পার্টির ঐতিহ্যবাহী ভিত্তি বজায় রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি সাতজন প্রার্থি দাখিল করেছে, যার মধ্যে কনভেনার নাহিদ ইসলাম (ঢাকা‑১১) অন্তর্ভুক্ত। পার্টি এই নির্বাচনে তার প্রভাব বাড়াতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না যথাক্রমে ঢাকা‑১৩ ও ঢাকা‑১৮ নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থিতা পত্র জমা দিয়েছেন। তাদের অংশগ্রহণ পার্টির ধর্মীয় ও নাগরিক ভিত্তি উভয়কেই শক্তিশালী করবে।
লেবার পার্টির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, আমজনতার দলীয় সাধারণ সম্পাদক তরিক রহমান এবং ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের সেক্রেটারি জেনারেল মোমিনুল আমিন সবাই ঢাকা‑১২ নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থিতা পত্র দাখিল করেছেন, যা ঐ এলাকায় বহু পার্টির সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল আলিমের মতে, শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে ঢাকা নির্বাচনের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে এবং ভোটারদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হবে। এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপে পার্টিগুলোর কৌশল নির্ধারণে।



