১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে নতুন ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ (PUC) প্রয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (LPAI) এবং পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গৃহীত।
চেকপোস্টের ম্যানেজার কামলেশ সাইনি স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নির্ধারিত হয়েছে যে, ভারত ও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের থেকে ২০০ রুপি এবং তৃতীয় দেশের যাত্রীদের থেকে ৫০০ রুপি (প্রায় ৫ মার্কিন ডলার) ফি সংগ্রহ করা হবে।
১০ বছরের নিচে বয়সী শিশুর জন্য এই ফি ৫০ রুপি পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভারত সরকারের তালিকাভুক্ত কিছু সরকারি সংস্থা ও নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই চার্জ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
PUC চালুর মূল উদ্দেশ্য হল আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সুবিধা উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবার মানোন্নয়ন করা। এ সংক্রান্ত আর্থিক সংগ্রহের মাধ্যমে টার্মিনাল অবকাঠামো ও সেবা গুণগত মানে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে বলে বলা হচ্ছে।
সেবার গতি বাড়াতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা মোবাইল নম্বর বা ইমেল ঠিকানা দিয়ে লগইন করে ‘স্লট বুক’ করতে পারবেন।
অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড প্লেস্টোর এবং iOS অ্যাপ স্টোর উভয় প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য QR কোড স্ক্যানের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা কিউ সময় কমিয়ে দ্রুত সেবা প্রদানকে সম্ভব করবে।
নতুন ফি প্রয়োগের পর যাত্রীদের মধ্যে বিরোধপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু যাত্রী উল্লেখ করেছেন যে, পূর্বে বেনাপোল স্থলবন্দরে কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপিত হতো না এবং এখন এই নতুন ট্যাক্স তাদের আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষ করে ভারতগামী যাত্রীরা, যারা দৈনন্দিন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এই রুট ব্যবহার করেন, তারা অতিরিক্ত খরচকে অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করছেন। তাদের মতে, এই চার্জের ফলে ভ্রমণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, অতিরিক্ত ফি সংগ্রহের মাধ্যমে বেনাপোলের রেভিনিউ বাড়বে এবং টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে তহবিল সরবরাহ হবে। তবে, যাত্রীদের আর্থিক চাপ বাড়ার ফলে রুটের ব্যবহার কমতে পারে, যা বাণিজ্যিক প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ফি কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল না থাকে, তবে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বিকল্প রুট বা পরিবহন মাধ্যমের দিকে ঝুঁকতে পারে। এ ক্ষেত্রে বেনাপোলের টার্মিনাল সেবার গুণগত মান ও সুবিধা বাড়ানো জরুরি হবে।
সারসংক্ষেপে, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে নতুন প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জের প্রয়োগ যাত্রীদের আর্থিক দায় বাড়িয়ে দিয়েছে, তবে টার্মিনাল অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়নে তহবিল সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে ফি কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন এবং সেবার মানোন্নয়ন সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হলে, যাত্রী সন্তুষ্টি ও বাণিজ্যিক প্রবাহ দুটোই স্থিতিশীল থাকতে পারে।



