বিএফএল-র সিলেটের ম্যাচে রংপুর রাইডারসের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ও প্রাক্তন ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৩৪ রান না-আউট, মাত্র ১৬ বলের মধ্যে গড়িয়ে দলকে জয় নিশ্চিত করেন। এই পারফরম্যান্সটি তার সাম্প্রতিক সমালোচনার পরের তাড়া, যেখানে তিনি রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে শেষ বলের মুহূর্তে এক রান না করতে পারার জন্য সমালোচনার মুখে ছিলেন।
গতকাল রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শেষ ওভারে স্কোর সমান থাকায় শেষ বলের দায়িত্ব মাহমুদুল্লাহকে দেওয়া হয়। রাইডারসকে জয় নিশ্চিত করতে তাকে স্ট্রাইক পরিবর্তন করতে হতো, তবে রিপন মন্ডলের ডেলিভারিতে একক দৌড়ে তিনি নন-স্ট্রিকারের শেষ প্রান্তে রান আউট হয়ে যান। ফলে রায়শাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে সুপার ওভারে ম্যাচ হারিয়ে রাইডারসকে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেয়।
শুক্রবার সিলেটের মাঠে ফিরে এসে মাহমুদুল্লাহ দ্রুতই নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করেন। ৩৪ রান না-আউট, ১৬ বলের দ্রুত গতি দিয়ে তিনি টাইটান্সের প্রতিরক্ষা ভেঙে দেন এবং শেষ পর্যন্ত রাইডারসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার এই পারফরম্যান্সের জন্য তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ম্যাচের পর মাহমুদুল্লাহ তার পারফরম্যান্সের পেছনের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “ডেলিভারি কখনো হয়, কখনো হয় না। অনেকেই ক্রিকেটকে সহজ মনে করে, বিশেষ করে টি২০-তে লেট মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করা খেলোয়াড়রা জানে এই অবস্থানের ঝুঁকি ও গুরুত্ব। এই ভূমিকা থেকে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করা সহজ নয়। দলকে সাহায্য করার চেষ্টায় কখনো সফল হই, কখনো ব্যর্থ হই।” এই মন্তব্যে তিনি টি২০-র লেট মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জের ওপর জোর দেন।
বিএফএল প্লেয়ার অশিয়ার প্রথম রাউন্ডে মাহমুদুল্লাহকে বাদ দেওয়া হয়, যা তিনি স্বীকার করে বলেন যে তিনি শকড ছিলেন। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে রংপুর রাইডারসের বেস প্রাইসে তাকে সিলেক্ট করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি অশিয়ার লাইভ দেখছিলাম এবং সত্যিই অবাক হয়েছি। গত দুই-তিন বছরের পারফরম্যান্স ও স্ট্যাটিস্টিক্স দেখলে আমি মনে করি আমার স্ট্রাইক রেট, গড় ও রান সংখ্যা অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের চেয়ে ভাল। প্রথমে কেউ আমাকে বাছেনি, পরে রংপুর আমাকে এই সুযোগ দিল।”
এই সুযোগ পেয়ে মাহমুদুল্লাহ রাইডারসের প্রতি এবং পুরো লীগে নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিএফএল-এ খেলতে চেয়েছি সবসময়। এই সুযোগ পেয়ে এখন আমি দলের মালিক, কোচ ও ক্যাপ্টেনের সামনে নিজের দক্ষতা দেখাতে চাই।” তার এই উত্সাহ এবং আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত মাঠে তার আক্রমণাত্মক শটের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
মাহমুদুল্লাহর এই পারফরম্যান্স রাইডারসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা দলকে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি দেয়। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ভূমিকা এখনো দলের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



