প্রযোজক নাগা ভামসি সম্প্রতি জানিয়েছেন যে ভিকি দেবেকন্দার মুখ্য ভূমিকায় অভিনীত ২০২৫ সালের স্পাই থ্রিলার ‘কিংডম’ ছবির সিক্যুয়েল এখন আর পরিকল্পনা করা হচ্ছে না। প্রথম ছবিটি জুলাই ২০২৫-এ থিয়েটারে মুক্তি পায় এবং গৌতম তিন্ননুরি পরিচালিত, যেখানে দেবেকন্দা সুরি নামের এক কনস্টেবলকে গোপন এজেন্টে রূপান্তরিত হওয়ার গল্পে অভিনয় করেন। ছবিটি ধারাবাহিকতার জন্য খোলা শেষ দিয়ে শেষ করা হয়েছিল, ফলে সিক্যুয়েল নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ে।
তবে মুক্তির পরের প্রথম সপ্তাহে বক্স অফিসের গতি প্রত্যাশিত না হওয়ায় ছবিটি মাঝারি সাফল্য অর্জন করে। উচ্চ বাজেট ও প্রচারাভিযানের পরেও টিকিট বিক্রির হার স্থিতিশীল না থেকে, মোট আয় প্রথম সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই আর্থিক ফলাফলকে নিয়ে প্রযোজক ও বিনিয়োগকারীরা সিক্যুয়েল তৈরির সম্ভাবনা পুনর্বিবেচনা করেন।
সিক্যুয়েল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নাগা ভামসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ‘কিংডম ২’ আর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, “এখন আর কোনো সিক্যুয়েল তৈরি হবে না; প্রথম ছবির ফলাফলকে পুনরায় বিশ্লেষণ করা কোনো লাভের নয়।” এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হল, প্রথম ছবির ব্যর্থতা নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা গৌতমের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাই তা এড়িয়ে চলা উত্তম।
প্রযোজক আরও জানান যে গৌতমের সঙ্গে তাদের কাজের সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে। “গৌতম এখন অন্য একটি প্রকল্পে ব্যস্ত; ভবিষ্যতে আমরা তার সঙ্গে নতুন কোনো কাজ করতে পারি,” তিনি উল্লেখ করেন। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, যদিও ‘কিংডম’ সিরিজ শেষ হয়েছে, তবু দুজনের মধ্যে সৃজনশীল সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
ভিকি দেবেকন্দার জন্য ‘কিংডম’ ছিল ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যর্থ ছবির পর। তবে সিক্যুয়েল বাতিলের পরেও তার কাজের তালিকায় নতুন প্রকল্প যুক্ত রয়েছে। তিনি রবি কিরণ কোলা পরিচালিত ‘রাউডি জনার্ধনা’ ছবিতে প্রধান ভূমিকায় থাকবেন, যা ২০২৬ সালে মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘রাউডি জনার্ধনা’ একটি অ্যাকশন থ্রিলার, যেখানে দেবেকন্দা একটি কঠোর ও সাহসী চরিত্রে অভিনয় করবেন। ছবির প্রি-প্রোডাকশন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং শুটিং শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা। এই প্রকল্পটি তার ক্যারিয়ারকে পুনরায় উজ্জ্বল করতে সহায়তা করবে বলে শিল্পের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে।
‘কিংডম’ সিরিজের বাতিলের খবর প্রকাশের পর চলচ্চিত্র প্রেমিক ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ভক্ত প্রথম ছবির গল্পের ধারাবাহিকতা দেখতে চেয়েছিলেন, অন্যরা বক্স অফিসের ফলাফলকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে অধিকাংশই প্রযোজকের সিদ্ধান্তকে বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বীকার করেছেন।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, আজকের বাজারে উচ্চ বাজেটের সিক্যুয়েল তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যখন মূল ছবির পারফরম্যান্স অনিশ্চিত থাকে। তাই প্রযোজকরা আর্থিক দিক থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে কাজ করা জরুরি। ‘কিংডম’ উদাহরণে দেখা যায়, বক্স অফিসের ফলাফল সরাসরি সিক্যুয়েল সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
প্রযোজক নাগা ভামসির এই সিদ্ধান্তের ফলে ‘কিংডম’ ফ্র্যাঞ্চাইজের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে গৌতমের সঙ্গে নতুন প্রকল্পে সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। এই কথাটি শিল্পের মধ্যে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, কারণ দুজনের সৃজনশীল সমন্বয় অতীতেও সফল ফল দিয়েছে।
ভিকি দেবেকন্দা নিজে এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং তার পরবর্তী কাজের দিকে মনোনিবেশ করছেন। তিনি ইতিমধ্যে ‘রাউডি জনার্ধনা’ শুটিং শিডিউল নিয়ে কাজ করছেন এবং নতুন চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার ভক্তরা এই নতুন ছবির জন্য আগ্রহী এবং প্রত্যাশা করছেন যে তিনি আবারও বড় স্ক্রিনে ছাপ ফেলবেন।
সারসংক্ষেপে, ‘কিংডম’ সিক্যুয়েল বাতিলের সিদ্ধান্ত বক্স অফিসের বাস্তবিক ফলাফল এবং শিল্পের আর্থিক রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। প্রযোজক ও পরিচালক উভয়েরই ভবিষ্যৎ প্রকল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়ে গেছে, আর ভিকি দেবেকন্দা নতুন ছবির মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারকে পুনরায় গড়ে তুলতে প্রস্তুত। এই পরিবর্তনটি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান প্রবণতা ও চ্যালেঞ্জকে প্রতিফলিত করে, যেখানে সৃজনশীলতা ও আর্থিক দায়িত্বের সমন্বয়ই সফলতা নির্ধারণ করে।



