18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিভারতীয় সেনাবাহিনী প্রথম র্যামজেট ইঞ্জিন চালিত ১৫৫ মিমি গোলা ব্যবহার শুরু করেছে

ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রথম র্যামজেট ইঞ্জিন চালিত ১৫৫ মিমি গোলা ব্যবহার শুরু করেছে

ইন্ডিয়ান ডিফেন্স ফোর্সগুলো এখন র্যামজেট ইঞ্জিনের সাহায্যে চালিত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল ব্যবহার করবে, যা দেশের প্রথমবারের মতো র্যামজেট প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত। এই উন্নয়নটি বহু বছরব্যাপী গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল, যেখানে আইআইটি মাদ্রাস, আইআইটি কানপুর, আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (এআরডিই) এবং রিসার্চ সেন্টার ইমারত (আরসিআই) একসাথে কাজ করেছে।

নতুন শেলটি র্যামজেট ইঞ্জিনের মাধ্যমে নিজস্ব গতি অর্জন করে, ফলে প্রচলিত আর্টিলারি সেলগুলোর তুলনায় গতি ও বিস্ফোরণ শক্তিতে দ্বিগুণেরও বেশি পারফরম্যান্স দেখায়। ১৫৫ মিমি হাউইৎজার গানের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই শেলটি ৮০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম, যা বর্তমান ভারতীয় আর্টিলারির সর্বোচ্চ পরিসীমা ৪০ কিলোমিটারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনী সুইডেনের বফর্স FH77B2, যুক্তরাষ্ট্রের M777 এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ধানুষ ও অ্যাডভান্সড টোড আর্টিলারি গান সিস্টেম (এটিএজিএস) ব্যবহার করে। এসব সিস্টেমের শেলগুলোর পরিসীমা সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার, ফলে দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সীমাবদ্ধতা রয়ে গিয়েছে। র্যামজেট শেলটির দ্বিগুণ গতি এবং বাড়তি পরিসীমা শত্রুর চলমান গাড়ি, ট্যাঙ্ক বা অন্যান্য গতিশীল লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানা সম্ভব করে।

সুইডেনের একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা সম্প্রতি ১৪০ কিলোমিটার পরিসীমার র্যামজেট শেল সফলভাবে পরীক্ষা করেছে, যা ভারতের নতুন শেলের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। গত বছর এয়ো ইন্ডিয়া ২০২৫ মেলায় এটিএজিএস থেকে ৮০ কিলোমিটার পরিসীমার র্যামজেট শেল প্রদর্শিত হয়েছিল, এবং এখন তা বাণিজ্যিক উৎপাদনে অগ্রসর হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির অধীনে দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র তৈরি করা। র্যামজেট শেলটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় গবেষণা ও উৎপাদন ক্ষমতার ফল, যা ভবিষ্যতে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং স্বদেশে উচ্চতর প্রযুক্তি বিকাশে ত্বরান্বিত করবে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে র্যামজেট শেলটি প্রচলিত গাইডেড আর্টিলারি সেলগুলোর তুলনায় গতি দ্বিগুণ, ফলে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সময় কমে যায় এবং শত্রুর প্রতিক্রিয়া সময় হ্রাস পায়। এছাড়া, র্যামজেট ইঞ্জিনের ব্যবহার শেলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্বরান্বিত করে, ফলে জ্বালানি খরচ কমে এবং দীর্ঘ দূরত্বে স্থিতিশীল গতি বজায় থাকে।

এই উন্নয়নটি কেবল সামরিক ক্ষেত্রে নয়, বরং র্যামজেট প্রযুক্তির গবেষণা ও উৎপাদন ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ভবিষ্যতে র্যামজেট ইঞ্জিনের ভিত্তিতে অন্যান্য ক্যালিবারের শেল বা মিসাইল সিস্টেমেও প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, র্যামজেট শেলটির দীর্ঘ পরিসীমা ও উচ্চ গতি সীমান্ত রক্ষা, উচ্চ-উচ্চতা আক্রমণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজনীয় অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, শেলটির স্বয়ংক্রিয় গতি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করতে সহায়তা করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, র্যামজেট শেলটির বাণিজ্যিক উৎপাদন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং শীঘ্রই ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন হাউইৎজার গানে সংযোজিত হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের স্বনির্ভরতা বাড়িয়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে উচ্চ-প্রযুক্তি অস্ত্রের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments