বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় রাত ১২টার কাছাকাছি একটি মালবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতি চালনা দুইজন মোটরসাইকেল আরোহীর প্রাণ নেয়। উকিল বাড়ি সড়কের সামনে ঝালকাঠি‑বরিশাল মহাসড়কে ঘটিত এই দুর্ঘটনায় ২৫ ও ২৮ বছর বয়সী দুজন যুবক নিহত হয়েছেন।
মৃতদেহের পরিচয় রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল (২৮) ও রুইয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা রাসেল (২৫)। উভয়ই রুপাতলী এসআই অ্যানিমল হেলথ স্টোরে হেলপার পদে কর্মরত ছিলেন এবং রাতের কাজ শেষ করে নাস্তা নিতে রুপাতলী বাস টার্মিনালের দিকে রওনা হন।
মোটরসাইকেল চালিয়ে যখন তারা রুপাতলী বাস টার্মিনালের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন একই সময়ে ঝালকাঠি‑বরিশাল মহাসড়কে একটি মালবাহী ট্রাক দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়। ট্রাকের চালক হঠাৎ করে গতি কমিয়ে না দিয়ে সরাসরি দুইজনের মোটরসাইকেলে আঘাত করেন।
আঘাতের ফলে রাসেল ও জুয়েল দুজনই গুরুতরভাবে আহত হন। আশেপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে স্থানীয় শের‑ই‑বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা উভয়ের মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহগুলোকে হাসপাতালে মর্গে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ট্রাকের চালক ও সহায়ককে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অবস্থায় ধরা পড়েনি।
অধিক তদন্তে জানা যায়, ট্রাকের চালক গতি সীমা অতিক্রম করে বেপরোয়া চালনা করছিলেন। ট্রাকের হেলপারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তবে তারা দুজনই ঘটনার পরপরই গাড়ি ত্যাগ করে অদৃশ্য হয়ে যান।
থানা দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাকের চালক ও হেলপারকে সনাক্ত করার জন্য রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও গাড়ির রঙের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালু করা হয়েছে। এছাড়া, রাস্তায় গতি সীমা লঙ্ঘনের জন্য প্রযোজ্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, অযৌক্তিক গতি, এবং দুজনের মৃত্যুর জন্য অপরাধমূলক দায়ের করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সাক্ষীদের বিবৃতি নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। দুজনের পরিবার ও সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার চায়।
বরিশাল নগরীর প্রশাসন এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাস্তায় গতি সীমা মানা, হেলমেট ব্যবহার এবং নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ একত্রে রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং ট্রাক চালকদের জন্য অতিরিক্ত চেকপয়েন্ট স্থাপন করবে।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে এবং আদালতে মামলার শুনানি নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, প্রমাণ সংগ্রহের পর দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে রুপাতলী ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল চালু করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



