আইসিসিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের স্কোয়াড জমা দেওয়ার শেষ সময় শুক্রবার শেষ হয়েছে, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনও আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি। স্কোয়াড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা লজিস্টিকস ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য নির্ধারিত, এবং জমা দেওয়ার পর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো কারণ না দেখিয়ে পরিবর্তন করা যাবে।
৩১ জানুয়ারি অতিক্রান্ত হলে দল পরিবর্তন শুধুমাত্র আঘাতের ভিত্তিতে এবং টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সম্ভব হবে। এই শর্তাবলী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাধারণভাবে প্রযোজ্য, এবং অন্যান্য দেশগুলো ইতিমধ্যে তাদের স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে সহ বেশ কয়েকটি দল তাদের তালিকা প্রকাশের সময়ই পরিবর্তনের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। অস্ট্রেলিয়া দলকে ‘প্রাথমিক’ স্কোয়াড হিসেবে ঘোষণা করেছে, ফলে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের দরজা এখনও খোলা আছে, তবে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনের মতে এই সম্ভাবনা সীমিত। তিনি উল্লেখ করেন, “গত ৬-৮ মাসে আমরা যে স্কোয়াড নিয়ে খেলেছি, মূলত সেখান থেকেই বিশ্বকাপ দল গড়ে উঠেছে। পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব একটা দেখছি না। তবে বিপিএল চলমান, আমরা অবশ্যই চোখ রাখব যদি কেউ অসাধারণ পারফরম্যান্স করে।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বর্তমান স্কোয়াডের ভিত্তি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বিপিএল চলাকালীন দুইজন জাতীয় নির্বাচক সিলেটের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের সঙ্গে আলোচনা করে দল বাছাই সম্পন্ন করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অনুমোদনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। নির্বাচকরা দল গঠন শেষ করার পর এখন শুধুমাত্র তা প্রকাশের অপেক্ষায়।
বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন জানিয়েছেন, স্কোয়াড জমা দেওয়া হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কখন ও কীভাবে ঘোষণা করা হবে তা বোর্ডের দায়িত্ব। তিনি যোগ করেন, “আমাদের কাজ আমরা করেছি, দল জমা দিয়েছি। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এটা কখন ঘোষণা করবে, কীভাবে করবে তা বোর্ডেরই ব্যাপার। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, স্কোয়াডের বিষয়টি ইতিমধ্যে সম্পন্ন, এবং এখন প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণের অপেক্ষা বাকি।
বিসিবি এখনও স্কোয়াডের নাম প্রকাশ না করলেও, আইসিসিতে জমা দেওয়া দলটি লুকিয়ে রাখা হয়েছে। কিছু সূত্রের মতে, বিসিবি বিপিএল শেষ হওয়ার পর একবারে পুরো স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারে। তবে এই গুজব এখনও নিশ্চিত নয় এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বোর্ডের হাতে থাকবে।
অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে স্কোয়াডের প্রকাশে দেরি হওয়া কিছুটা অস্বাভাবিক, তবে আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিবর্তন করা সম্ভব, ফলে বোর্ডের জন্য সময়সীমা বজায় রাখা সহজ হয়েছে। এই সময়ে নির্বাচকরা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য নজর রাখছে, বিশেষত বিপিএলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করা খেলোয়াড়দের দিকে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে, বিসিবি এখনো দল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি, তবে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধানের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। স্কোয়াডের প্রকাশের পর দলটি আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ শিবির এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত হবে।
বিসিবি কর্তৃক স্কোয়াডের গঠন প্রক্রিয়ায় নির্বাচক, অধিনায়ক এবং বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয় দেখা গেছে। এই সমন্বয় দল গঠনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। স্কোয়াডের নাম প্রকাশের পর, মিডিয়া ও ভক্তদের কাছ থেকে প্রত্যাশা বাড়বে, এবং দলকে সমর্থন করার জন্য বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম চালু হবে।
সর্বশেষে, আইসিসিতে জমা দেওয়া স্কোয়াডের তথ্য গোপন রাখা সত্ত্বেও, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধানের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে দলটি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। স্কোয়াডের ঘোষণার পর, বাংলাদেশি ক্রিকেট প্রেমিকরা বিশ্বকাপের জন্য উত্তেজনা ও আশাবাদে ভরে উঠবে।
এই পর্যায়ে, বিসিবি কর্তৃক স্কোয়াডের প্রকাশের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে, দলকে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে, যাতে খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে।
বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশি দল প্রস্তুত, এবং স্কোয়াডের ঘোষণার অপেক্ষায় ভক্তদের উত্তেজনা বাড়ছে। স্কোয়াডের নাম প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের জন্য প্রস্তুত হবে।



