18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুমকি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদে কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুমকি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদে কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু

ইরানের রাজধানী তেহরানে চলমান প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ demonstrators-কে লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেন, যা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ‘অবিবেচক ও বিপজ্জনক’ বলে সমালোচনা করতে বাধ্য করে। ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি বলেছিলেন, “আমরা প্রস্তুত এবং লকড ও লোডেড”, তবে কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপের উল্লেখ করেননি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একই সময়ে টুইটারে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সীমানায় ন্যাশনাল গার্ডের মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পকে জানার উচিত যে জনসাধারণের সম্পত্তিতে অপরাধমূলক আক্রমণ সহ্য করা যাবে না। তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কোনো হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যানের কথা পুনরায় জোর দেন।

ইরানীয় পুলিশ বিভাগের মুখপাত্রও একই রকম সুরে মন্তব্য করেন, তিনি বলেন নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হল ‘শত্রু’দেরকে অশান্তিকে বিশৃঙ্খলায় রূপান্তরিত হতে না দেওয়া। এদিকে, তেহরানে চলমান এক সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদে অন্তত আটজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে আছে। লর্ডেগানে দক্ষিণ-পশ্চিমে দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে ফার্স সংবাদ সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও উভয়ই নাম উল্লেখ করেছে—আহমদ জালিল ও সজ্জাদ ভালামানেশ। একই সময়ে, আজনা শহরে তিনজনের মৃত্যু রিপোর্ট হয়েছে, আর কুহদাশ্তে আরেকজনের মৃত্যু ঘটেছে; তবে এদের মধ্যে demonstrator না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা স্পষ্ট নয়।

ফুলাদশাহর, মধ্য ইরানে একজনের মৃত্যু এবং মার্ভদাশ্টে আরেকজনের মৃত্যুও রেকর্ড করা হয়েছে। এই তথ্যগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র একে অপরকে সমর্থন করেছে।

প্রতিবাদগুলো তেহরানের বাজারে শুরু হয়, যেখানে দোকানদাররা মুদ্রার মানের হঠাৎ পতনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রুপি ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের তীব্র অবনতি তাদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছিল, ফলে তারা রাস্তায় নেমে দাবি জানায়।

দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেয়, এবং শহর-শহরে প্রতিবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনায়, যা সরকারের প্রতি অসন্তোষের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, যেখানে গুলিবিদ্ধ ও গুলিবিদ্ধ না হওয়া উভয় ধরনের ক্ষতি ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ় অবস্থান ও প্রতিবাদকারীদের অস্থিরতা একে অপরকে তীব্র করে তুলেছে।

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সরকার স্পষ্টভাবে বলেছে যে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপকে তারা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার সংকল্পকে তুলে ধরে।

প্রতিবাদগুলোর বিস্তার এবং মৃত্যুর সংখ্যা উভয়ই ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত এবং ইরানের কঠোর বিরোধের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট, তবে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই ঘটনাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যে জটিল পারস্পরিক ক্রিয়ার প্রতিফলন। তেহরান ও অন্যান্য শহরে চলমান প্রতিবাদ এবং মৃত্যুর সংখ্যা দেশীয় নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments