খারকিভের একটি বহু তলাবিশিষ্ট বাসাবাড়িতে শুক্রবার বিকেলে মিসাইল আঘাতের ফলে দুইজনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে তিন বছর বয়সী একটি শিশুও অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেনের সরকার জানিয়েছে, এই হামলায় প্রায় ২৮ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে ছয় মাসের একটি শিশুও রয়েছে।
আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মিসাইল আঘাতে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষে মৃতদেহ পাওয়া গেছে, যেখানে মৃত এক নারী ও তার তিন বছর বয়সী সন্তান হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে “অত্যাচারী” বলে নিন্দা করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে রাশিয়ার মানবিক মূল্যবোধের অবহেলা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ণ করে।
রাশিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রাম মাধ্যমে জানিয়ে দেয় যে, খারকিভে কোনো মিসাইল বা বিমান আক্রমণ ঘটেনি এবং ঘটনাস্থলে ধোঁয়ার উৎস অজানা, যা সম্ভবত ইউক্রেনীয় গুলিবিদ্ধি থেকে উদ্ভূত। মন্ত্রণালয় আরও যুক্তি দেয় যে, এই খবরগুলো রাশিয়ার উপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরিয়ে নতুন বছরের আগের আক্রমণ থেকে দূরে রাখতে চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভের মতে, ঘটনাস্থলে ৮০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন এবং অনুসন্ধান-উদ্ধার কার্যক্রম চলমান। স্বেচ্ছাসেবকরা ধ্বংসাবশেষ থেকে বেঁচে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে ব্যস্ত।
হামলার পরপরই, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শনিবার কিয়েভে প্রায় পনেরো দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করবেন।
এই আলোচনার লক্ষ্য রাশিয়ার সামরিক আক্রমণ বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চস্তরের বৈঠক রাশিয়ার কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াতে পারে এবং ইউক্রেনের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।
শুক্রবারের হামলা এবং শীঘ্রই অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক শীর্ষ সম্মেলনকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আন্তর্জাতিক মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফ্রান্সে ৬ জানুয়ারি নির্ধারিত “ইচ্ছুক গোষ্ঠীর” শীর্ষ বৈঠকও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “খারকিভে ঘটিত এই হামলা রাশিয়ার সামরিক কৌশলের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং একই সঙ্গে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া রাশিয়ার আক্রমণবিরোধী অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে বেসামরিক জনগণের ক্ষতি বাড়ছে, এবং এই ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
খারকিভে মিসাইল আঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে, ইউক্রেনের সরকার পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, রাশিয়ার কোনো আক্রমণই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। শীঘ্রই অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক শীর্ষ সম্মেলন এবং ফ্রান্সে নির্ধারিত বৈঠক রাশিয়ার নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের উপর।



