দীর্ঘ ছুটির পর নতুন বছরের প্রথম রবিবার, ৪ জানুয়ারি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এই পুনরায় শুরু দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাজকর্মে ধারাবাহিকতা আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রথম আপিল বিভাগে বিচারিক সেশন পরিচালনা করবেন। তার উপস্থিতি আদালতের শীর্ষে নতুন নেতৃত্বের সূচনা চিহ্নিত করবে।
চৌধুরী বিচারপতি ২৮ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পর থেকে তিনি অবকাশের সময়ে ছিলেন, ফলে রোববারই তার প্রধান বিচারপতি হিসেবে প্রথম কার্যদিবস হবে।
সকাল ১০:৩০ টায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি ১ নম্বর এজলাস কক্ষে প্রধান বিচারপতিকে স্বাগত জানাবে। সমিতি ও আদালত কর্মীরা এই অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন, যাতে নতুন প্রধান বিচারপতির আগমনকে সম্মানজনকভাবে স্বাগত জানানো যায়।
ছুটির সময়সূচি ডিসেম্বরের নির্ধারিত ছুটির কারণে ছিল, যা দেশের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত হয়েছিল। এই বিরতি আদালতের কার্যক্রমে সাময়িক থামা সৃষ্টি করলেও, পুনরায় শুরুতে কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে জমা থাকা মামলাগুলোর সমাধানের জন্য এই পুনরায় শুরু গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উচ্চপ্রোফাইল ও দীর্ঘস্থায়ী মামলাগুলোতে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে।
সরকার আদালতের স্বতন্ত্রতা ও কার্যকরী পরিচালনা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে। নতুন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিছু রাজনৈতিক দল ও বিরোধী গোষ্ঠীও আদালতের পুনরায় খোলার স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে নতুন প্রধান বিচারপতি ন্যায়বিচারে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীল মামলায় ন্যায়সঙ্গত রায় দেবেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, চৌধুরী বিচারপতির শুরুর দিনগুলোতে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি গঠন হবে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের মোকাবিলায় প্রভাব ফেলবে। উচ্চ আদালতে শীঘ্রই গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর শুনানি নির্ধারিত, যা দেশের আইনি পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের অবকাঠামো ও সিক্রেটারিয়েটের সাম্প্রতিক উন্নয়নও এই পুনরায় শুরুকে সমর্থন করবে। পূর্বে সম্পন্ন করা আধুনিকায়ন কাজগুলো আদালতের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ করে তুলবে।
সামগ্রিকভাবে, রোববারের এই পুনরায় শুরু দেশের বিচার ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রত্যাশা রয়েছে যে আদালত দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত রায় প্রদান করে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে।



