চট্টগ্রাম শহরে বিদেশে পলাতক সন্দেহভাজন সাজ্জাদ আলী, যাকে পুলিশ ‘সন্ত্রাসী’ বলে চিহ্নিত করেছে, তার সহায়করা গত শুক্রবার চন্দনপুরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ করে। গুলিবর্ষণের ফলে কোনো প্রাণহানি না হলেও ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশের মতে, সাজ্জাদ আলী বিদেশে অবস্থান করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেন। তার দল থেকে চাঁদা আদায়, চাঁদা না পেলে গুলি, এবং প্রকাশ্যে হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সাজ্জাদ আলীর সহায়করা চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বস্তামী, পাঁচলাইশ এবং হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচটি থানা জুড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার দলের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে বেশিরভাগ সন্দেহভাজন এখনও ধরা পড়েনি।
গত দেড় বছরে চট্টগ্রামে অন্তত দশটি হত্যাকাণ্ডে বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোতে কখনো গ্যাং আধিপত্য বজায় রাখার উদ্দেশ্য, আবার কখনো ভাড়াটে হত্যাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান।
সাজ্জাদ আলীর নাম প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালের ২ জুন পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের তখনকার কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খানের হত্যার সঙ্গে যুক্ত হয়। লিয়াকত আলী বাড়ির সামনের অংশে গুলি হয়ে মারা যান। যদিও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়, তবে সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে আদালত থেকে সাজ্জাদকে মুক্তি দেয়া হয়।
২০০০ সালের ১ অক্টোবর সাজ্জাদ আলীকে একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে জামিনে রিলিজ হয়ে তিনি বিদেশে পলায়ন করেন। তার পলায়নের পর থেকে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে তার উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে অনুমান করা হচ্ছে।
একই বছর, ১২ জুলাই মাইক্রোবাসে ছাত্রলীগের ছয়জন নেতা-কর্মীকে নিয়ে একটি দলীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে বহদ্দারহাটে থামিয়ে সন্ত্রাসীরা ব্রাশফায়ার চালায়। গুলিবর্ষণের ফলে ছয়জন নেতা-কর্মীসহ আটজনের মৃত্যু হয়। এই ‘এইট মার্ডার’ নামে পরিচিত ঘটনায়ও সাজ্জাদ আলীর নেতৃত্বের অভিযোগ উঠে।
পুলিশ বর্তমানে সাজ্জাদ আলীর সহায়কদের ওপর ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত কয়েকজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে, তবে বেশিরভাগ সন্দেহভাজন এখনও ধরা পড়েনি। তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ আদালত হিয়ারিংয়ের তারিখ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পাওয়া যায়নি।
সাজ্জাদ আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে আত্মীয়ের নামও উল্লেখ রয়েছে; তিনি চট্টগ্রামের চালিতাতলী এলাকার আবদুল গণির পুত্র। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবু পুলিশ তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং অপরাধের মূল কাঠামো ভেঙে ফেলতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



