বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর নতুন মাসিক মূল্য তালিকা আগামী রবিবার, ৪ জানুয়ারি, প্রকাশিত হবে। মূল্য নির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই ঘোষণার মাধ্যমে বেসরকারি এলপিজি বিক্রেতা ও গ্রাহকদের জন্য এক মাসের জন্য প্রযোজ্য দাম নির্ধারিত হবে।
বিইআরসি জানিয়েছে যে, নতুন মূল্য তালিকা সৌদি আরামকোর জানুয়ারি মাসের কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) অনুসারে সমন্বয় করা হবে। সৌদি সিপি আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের মূল্যের একটি প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচিত, তাই এর পরিবর্তন সরাসরি বাংলাদেশের এলপিজি দামের ওপর প্রভাব ফেলে। এই ভিত্তিতে বেসরকারি সরবরাহকারীরা তাদের বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করবে।
বিইআরসি রোববার বিকেল ৩টায় একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করবে। এই তথ্যটি আজ শনিবারই কমিশনের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মূল্য তালিকার বিশদ এবং কার্যকর সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করা হবে।
এলপিজি গৃহস্থালীর দৈনন্দিন ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে শীতকালে গরম করার এবং রান্নার জন্য এর চাহিদা বাড়ে। তাই মূল্য পরিবর্তন সরাসরি পরিবারের বাজেটকে প্রভাবিত করে। বেসরকারি বিক্রেতা ও রিটেলারদের মধ্যে দামের পার্থক্য নিয়ে যে অভিযোগগুলো নিয়মিত উঠে আসে, সেগুলোর তদারকি করার দায়িত্বেও বিইআরসি রয়েছে।
কমিশন বাজারে রিটেলারদের মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে এবং অনিয়মিত মূল্য বৃদ্ধি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই তদারকি ব্যবস্থা গ্রাহকদের ন্যায্য মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং সৌদি সিপির ওঠানামা এই ঘোষণার পেছনের মূল কারণ। তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা বাংলাদেশে সরবরাহ শৃঙ্খল ও মুদ্রা বিনিময় হারের মাধ্যমে প্রভাব ফেলে। ফলে বিইআরসি এই বৈশ্বিক সূচকের ভিত্তিতে মূল্য সমন্বয় করে।
বাজারে নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস ট্রেডার, পাইকারি সরবরাহকারী এবং রিটেলাররা তাদের বিক্রয় কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে। যদি সিপি বৃদ্ধি পায়, তবে গ্যাসের ক্রয়মূল্য বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের দামের ওপর প্রভাব ফেলবে। বিপরীতভাবে, সিপি কমলে দাম হ্রাসের সম্ভাবনা থাকে।
দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিইআরসি অতিরিক্ত কর বা ট্যাক্সের মাধ্যমে দামের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে, গ্যাসের সরবরাহ চেইনে কোনো বড় পরিবর্তন না হলে মূল দামের দিকেই পরিবর্তন সীমাবদ্ধ থাকবে।
এলপিজি দামের পরিবর্তন সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি সূচকে প্রভাব ফেলে, কারণ গৃহস্থালীর জ্বালানি ব্যয় মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ গঠন করে। দাম বাড়লে গৃহস্থালী ব্যয় বাড়বে, যা ভোগের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, দাম কমলে গৃহস্থালী ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ভোগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভবিষ্যতে গ্যাসের আন্তর্জাতিক দামের অস্থিরতা, রুয়ানি ও ডলারের বিনিময় হার এবং দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা মূল ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে। বিইআরসি এই সব উপাদানকে বিবেচনা করে পরবর্তী মাসের জন্য মূল্য নির্ধারণ করবে। তাই বাজারের অংশগ্রহণকারীদের জন্য এই ঘোষণার পরবর্তী প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, বিইআরসি রোববার নতুন এলপিজি মূল্য তালিকা প্রকাশ করবে, যা সৌদি আরামকোর জানুয়ারি সিপি ভিত্তিক হবে এবং এক মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। এই মূল্য নির্ধারণ গৃহস্থালী ব্যয়, বাজারের মূল্য স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি প্রবণতাকে প্রভাবিত করবে। বাজারের অংশগ্রহণকারীদের জন্য এই পরিবর্তনকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।



