হলিউডের বিশাল গেমিং ও সিনেমা হাউস ইউনিভার্সাল স্টুডিওস, ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানির এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অল্প শেয়ার অর্জন করেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এক্সেল তার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে। উভয় পক্ষের লক্ষ্য হল বড় ধারণা বাস্তবায়ন এবং কন্টেন্টের গ্লোবাল রিচ বৃদ্ধি করা।
ইউনিভার্সাল স্টুডিওসের অংশীদারিত্বে এক্সেল তার মূল মালিকানা বজায় রেখে একটি সংখ্যালঘু শেয়ার পেয়েছে। শেয়ারের পরিমাণ প্রকাশ্যে না থাকলেও, এটি এক্সেলের ভবিষ্যৎ প্রকল্পে বিদেশি পুঁজি ও প্রযুক্তি সংযোজনের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে হিন্দি-ইংরেজি মিশ্রণযুক্ত গল্পগুলোকে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল এক্সেলের উৎপাদন স্কেল বাড়িয়ে বড় বাজেটের প্রকল্পে হাত দেওয়া। সূত্র অনুযায়ী, এক্সেল ইতিমধ্যে বেশ কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী ধারণা প্রস্তুত করেছে এবং সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সহায়তা চায়। গ্লোবাল বিতরণ চ্যানেল ও মার্কেটিং কৌশলকে একত্রে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এক্সেল ২০২৫ সালের পরিকল্পনায় বিভিন্ন ধরণের চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল কন্টেন্ট অন্তর্ভুক্ত করেছে। তালিকায় রয়েছে “১২০ বাহাদুর”, “গ্রাউন্ড জিরো”, “সুপারবয়স অব মালেগাঁও” এবং ডিজিটাল রিলিজ “সোংস অফ পারাডাইস”। এই শিরোনামগুলো বিভিন্ন থিম ও শৈলীর সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকের কাছে নতুন স্বাদ উপস্থাপন করবে।
এই প্রকল্পগুলো সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে, তবে বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। কিছু চলচ্চিত্রের টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার নিচে থাকায় এক্সেল তার ব্যবসায়িক মডেল পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন অনুভব করেছে। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আর্থিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বহিরাগত বিনিয়োগের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্রতর হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আদার পুণওয়াল্লা ধর্মা প্রোডাকশনে ৫০% শেয়ার অর্জন করে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করেছেন। এই ধরণের কৌশল দেখায় যে বিশ্ববাজারে ভারতীয় কন্টেন্টের চাহিদা বাড়ছে এবং বিদেশি স্টুডিওগুলো এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়।
ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানির এক্সেল, “দিল চাহতা হাই”, “ডন” এবং জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ “ইনসাইড এডজ”, “মির্জাপুর” ইত্যাদি দিয়ে ভারতীয় বিনোদন জগতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে। এই সাফল্যগুলোকে ভিত্তি করে এখন তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে গল্পের পরিসর বাড়াতে চায়।
ইউনিভার্সাল স্টুডিওসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ফলে সীমান্ত পারাপার সহ-প্রযোজনা, যৌথ স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট এবং বৈশ্বিক বিতরণ নেটওয়ার্কে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে দু’পক্ষের সমন্বয়ে এমন প্রকল্প দেখা যেতে পারে যা ভারতীয় সংস্কৃতির স্বাদ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও গল্প বলার পদ্ধতি ব্যবহার করবে।
এই সহযোগিতা ভারতীয় চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল কন্টেন্টের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্লোবাল দর্শকের চাহিদা মেটাতে স্কেল‑আপ করা এবং বড় ধারণা বাস্তবায়ন করা এক্সেলের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য। ইউনিভার্সাল স্টুডিওসের পুঁজি ও অভিজ্ঞতা এই লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে, ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হবে।



