দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশন কাউন্সিল (এসটিসি) আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা জানিয়ে একটি সরকারি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে। গোষ্ঠীর সভাপতি ইদারুস আল‑জুবাইদি শুক্রবার টেলিভিশনে সরাসরি ভাষণ দিয়ে এই লক্ষ্য প্রকাশ করেন।
এলান্সে তিনি উল্লেখ করেন, দুই বছরের একটি রূপান্তরকাল শুরু করা হবে, যার শেষে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেন।
প্রেসিডেন্ট আল‑জুবাইদি বলেন, রূপান্তরকাল শেষে দক্ষিণে স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্রের সীমানা ও শাসনব্যবস্থা নির্ধারিত হবে। তিনি যোগ করেন, যদি আন্তর্জাতিক সংস্থা আলোচনায় সক্রিয় না থাকে অথবা দক্ষিণের জনগণ ও তাদের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর কোনো আক্রমণ হয়, তবে দুই বছরের সময়সীমা অমান্য করা হবে।
২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সানা শহর দখল করে, তখন দেশের প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল‑হাদী সৌদিতে আশ্রয় নেন। হুথি বিদ্রোহ দমন এবং হাদীকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে যুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন পায়।
২০১৫ সাল থেকে এই জোট হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে যুদ্ধের পরেও হুথি পুরো দেশ দখল করতে পারেনি। বর্তমানে হুথি উত্তর ইয়েমেন, যার মধ্যে রাজধানী সানা অন্তর্ভুক্ত, নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর দক্ষিণে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল (ওয়াইপিসি) শাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
সৌদি আরব ও তার জোটের স্বীকৃতিতে ওয়াইপিসি ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে গণ্য হয়, যদিও হুথি ওয়াইপিসির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত। এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থন ও আর্থিক সহায়তার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
সাউদার্ন ট্রানজিশন কাউন্সিলও ২০১৫ সালে জোটের সঙ্গে সামরিক মিত্র হিসেবে যুক্ত হয়, তবে পরবর্তীতে স্বতন্ত্র কৌশল অনুসরণ করে জোট থেকে সরে আসে। এই বিচ্ছিন্নতা গোষ্ঠীর নিজস্ব রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষার ইচ্ছা থেকে উদ্ভূত।
২০২২ সালে এসটিসি হাদ্রামাউতসহ দক্ষিণের বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে, এবং যুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা গড়ে তোলে। এই সময় থেকে গোষ্ঠী দক্ষিণের স্বায়ত্তশাসন ও ভবিষ্যৎ স্বাধীনতার দিকে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
এসটিসি এখন দুই বছরের রূপান্তর পরিকল্পনা ঘোষণা করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানায়। গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, যদি আলোচনার পরিবেশ অনুকূল না হয়, তবে গণভোটের সময়সূচি ত্বরান্বিত করা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ঘোষণাপত্র দক্ষিণের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সমাধানের জন্য একটি স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে। তবে একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান শান্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা বাড়াতে পারে, কারণ হুথি ও উত্তর সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা এখনো অনিশ্চিত, তবে গোষ্ঠী স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদেরকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য অনুরোধ করেছে। যদি সফল হয়, তবে দক্ষিণের স্বাধীনতা প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে।
অবশেষে, এসটিসির এই ঘোষণা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। দুই বছরের রূপান্তরকাল শেষে গণভোটের ফলাফল কীভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে, তা ভবিষ্যতে নির্ধারিত হবে, এবং তা দেশের সামগ্রিক শান্তি ও পুনর্গঠনে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।



