জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ভ্যাট দিবস উদযাপন করে, একই মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত ভ্যাট সপ্তাহের আয়োজন করে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো নিবন্ধন করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ভ্যাটের সঠিক পরিশোধ নিশ্চিত করা।
দশই ডিসেম্বর থেকে একুশই ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী এক লক্ষ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নতুনভাবে চিহ্নিতকরণ ও নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়। ক্যাম্পেইনটি ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়, যেখানে ছুটির দিনগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ক্যাম্পেইনের ফলস্বরূপ ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে মোট ১,৩১,০০০টি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা যায়। এই সংখ্যা পূর্বে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, যা এনবিআরের নিবন্ধন প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নির্দেশ করে।
অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণের পূর্বে দেশের মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫,১৬,০০০। নতুন নিবন্ধনের পর এই সংখ্যা বেড়ে ৭,৭৫,০০০ে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪,৫৯,০০০ প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এনবিআরের সংগ্রহকৃত শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়কর মধ্যে সর্বোচ্চ অংশ ভ্যাট থেকে আসে। গত অর্থবছরে মোট রাজস্বের ৩৮% ভ্যাটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশের আর্থিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভ্যাটের আওতা বিস্তারের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকার ভ্যাট আইন সংশোধন করে নিবন্ধনের সীমা ৩ কোটি টাকার পরিবর্তে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি টার্নওভারযুক্ত প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করেছে, যাতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা গুলোও ভ্যাটের আওতায় আসে।
ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে এনবিআর eVAT সিস্টেম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত পরিশোধিত ভ্যাটের রিফান্ড পেতে পারে এবং সরাসরি সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা করতে পারে।
ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজবোধ্য রিটার্ন ফরম্যাট তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা কম জটিলতা নিয়ে ভ্যাট দায়িত্ব পালন করতে পারে। এই পদক্ষেপটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক বোঝা কমিয়ে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনবিআর সকল স্তরের ভোক্তা, ব্যবসায়ী, শিল্প মালিক এবং মিডিয়ার সহযোগিতা আহ্বান জানিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে যে সমন্বিত প্রচেষ্টা ভ্যাট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াবে, ফলে দেশের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন শক্তিশালী হবে।
ভবিষ্যতে ভ্যাটের আওতা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা রাজস্বের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সহজতা এবং ডিজিটাল সেবার গুণগত মান বজায় রাখা হবে মূল চ্যালেঞ্জ।



