বিপিএল নিলামের টেবিলে নামটি উপেক্ষা করা সত্ত্বেও, মাহমুদউল্লাহর মাঠে নামলে রঙপুর রাইডার্সের ম্যাচের গতি বদলে গেল। বর্তমান মৌসুমে তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পারফরম্যান্স দেখিয়ে অভিজ্ঞতার মূল্য প্রমাণ করেছেন।
নিলামের প্রথম রাউন্ডে দল না পেয়ে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন, যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। নিজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তিনি বলেছিলেন, প্রথম রাউন্ডে দল না পাওয়া অপ্রত্যাশিত ছিল।
গত দুই মৌসুমে তিনি ফরচুন বরিশালের হয়ে সীমিত ইনিংস খেললেও তার স্ট্রাইক রেট ১৩০‑এর উপরে ছিল এবং রান ধারাবাহিকভাবে সংগ্রহ করতেন। এই পরিসংখ্যান তাকে টিম সিলেকশনের তালিকায় থাকা উচিত বলে তার যুক্তি ছিল।
এই মৌসুমে রঙপুরের জার্সিতে নামার পরপরই তিনি চাপের মুখে পড়েন। লেট মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ের ঝুঁকি এবং শেষ ওভারের চ্যালেঞ্জ তাকে নতুনভাবে পরীক্ষা করে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শেষ ওভারে এক রান না নিতে পারার ফলে রঙপুর রাইডার্স সুপার ওভারে গিয়ে হারে। শেষ মুহূর্তে ব্যাটিংয়ের ঝুঁকি তার ওপরই পড়ে, যা তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল।
মাহমুদউল্লাহর মতে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শেষ দিকের ব্যাটিং সহজ মনে হলেও প্রতিটি ডেলিভারির নিজস্ব চ্যালেঞ্জ থাকে। দলের প্রয়োজন মেটাতে ঝুঁকি নেওয়া সব সময় ফল দেয় না, এটাই তিনি উল্লেখ করেছেন।
পরবর্তী ম্যাচে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে রঙপুরকে ৪৯ রান দরকার ছিল শেষ পাঁচ ওভারে। এই চাপের মুহূর্তে মাহমুদউল্লাহর আক্রমণাত্মক খেলা দলকে সঠিক পথে নিয়ে যায়।
মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে চারটি ধারাবাহিক চারের মাধ্যমে গতি বাড়িয়ে দিলেন, আর মাহমুদউল্লাহর ১৬ রান এবং অক্ষত ৩৪‑রানের ইনিংস, মাত্র সাত বল বাকি রেখে রঙপুরকে জয় নিশ্চিত করল।
ম্যাচের পর তিনি দলের জয়কে ব্যক্তিগত সমালোচনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, কারণ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখাই মূল লক্ষ্য। এই জয় রঙপুর রাইডার্সের মনোবল বাড়িয়ে তুলেছে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
রঙপুর রাইডার্সের পরবর্তী প্রতিযোগিতা শিডিউল এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি এই জয়ের স্রোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করবে।



