19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকসৌদি জোটের বিমান হামলায় হাদরামাউতে অন্তত ২০ জন এসটিসি সদস্য নিহত

সৌদি জোটের বিমান হামলায় হাদরামাউতে অন্তত ২০ জন এসটিসি সদস্য নিহত

৩ জানুয়ারি, ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা চালায়। হাওয়াইতে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়, যার ফলে এসটিসি সদস্য অন্তত বিশজন প্রাণ হারায় এবং বহু মানুষ আহত হয়।

হামলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাদরামাউতের আল-খাশা ক্যাম্পে সাতটি পৃথক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, আর সেয়ুন ক্যাম্পেও প্রাণঘাতী আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। উভয় ঘাঁটি এসটিসি-সমর্থিত বাহিনীর প্রধান অবস্থান, যা এই অঞ্চলে তাদের কৌশলগত উপস্থিতি শক্তিশালী করে।

আল-খাশা ক্যাম্পের নিকটবর্তী গ্রামবাসীরা রাত্রিকালীন আকাশে ঝলমলে আলো এবং ধারাবাহিক বিস্ফোরণ শোনার কথা জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, চেকপয়েন্টে গুলিবর্ষণ বাড়ছে, যা সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অগ্রগতিকে সহজতর করছে।

এসটিসি-র প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মালিকের মতে, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ধারাবাহিকভাবে এসটিসি-র অবস্থান শনাক্ত করে আক্রমণ চালাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের লক্ষ্যভেদী আক্রমণ অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

হামলার পাশাপাশি হাদরামাউতে স্থলভাগে তীব্র লড়াই চলছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এসটিসি-সমর্থিত বাহিনী ও ইয়েমেনি সরকারী সেনাবাহিনীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের জন্য মারাত্মক সংঘর্ষ চলছে। উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বাড়াতে চায়।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে, দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) শুক্রবার দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাল ঘোষণা করে। এই সময়ে তারা দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রশাসন পরিচালনা করবে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীদের উত্তরের বৃহৎ অংশ দখল করার সঙ্গে শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে সংঘাতের মাত্রা বাড়ে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট থেকে ব্যাপক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল, দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তার পর থেকে এসটিসি-র রাজনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলীয় শক্তি সমতা পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, সৌদি-ইউএই জোটের সামরিক পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো সমর্থন করে, তবে মানবিক সংকটের দিকে নজর দিয়ে বহু দেশ ও জাতিসংঘের শান্তি প্রচেষ্টার আহ্বান জানায়। বিশেষ করে, জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া এই আক্রমণকে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার সময়সূচিকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি দুই বছরের অন্তর্বর্তী শাসনকাল সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন ও সম্ভাব্য স্বাধীনতা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে চলমান সামরিক সংঘর্ষ ও বেসামরিক ক্ষতি এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।

অবশেষে, মানবিক দিক থেকে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বোমা হামলা ও স্থলযুদ্ধের ফলে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা সুবিধা ও মৌলিক সেবার অভাব বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর ত্বরিত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments