মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওলেগ পোস্টনিকভের মন্তব্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সব পক্ষের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রকাশ পেলে জেসিপিওএ (২০১৫) মত একটি চুক্তি পুনরায় গঠন করা সম্ভব, তবে কেবল কাগজে স্বাক্ষরই যথেষ্ট নয়।
পোস্টনিকভ উল্লেখ করেছেন, ২০১৫ সালের জেসিপিওএ দেখিয়েছে যে চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তি টেকসই হতে হলে তা বাস্তবায়নের ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা দরকার, না হলে তা কেবল কাগজে থাকা এক নথি হয়ে যাবে।
ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ইউএন রেজুলেশনের মেয়াদ গত বছরের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রেজুলেশন শেষ হওয়ার পর থেকে ইরান দাবি করে যে আর কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর নয়।
এর বিপরীতে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের এই অবস্থানকে অস্বীকার করে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তিনটি ইউরোপীয় দেশ ইরানকে জেসিপিওএর শর্তাবলী লঙ্ঘন করার অভিযোগে চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছে। ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তার অবস্থানকে সমর্থন করে চীন ও রাশিয়া একত্রে কথা বলেছে।
চীন ও রাশিয়া যুক্তি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পরই এই নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা আর কার্যকর করা সম্ভব নয়। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, বর্তমান আন্তর্জাতিক কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় চালু করা কঠিন।
ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানকে চুক্তি মানতে না পারার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসা উচিত বলে দাবি করে। তারা উল্লেখ করেছে যে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণ না হলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। তবে চীন ও রাশিয়া এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে মূল বাধা হিসেবে তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সব পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি পুনরায় জাগ্রত হয় এবং চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত হয়, তবে নতুন চুক্তি গঠন সম্ভব হতে পারে। তবে কেবল স্বাক্ষরই নয়, তা কার্যকর করার জন্য পর্যবেক্ষণ মেকানিজম, সঠিক সময়সূচি এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রয়োজন হবে।
ভবিষ্যতে, রাশিয়া ও চীন ইরানের পক্ষে সমর্থন জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই দ্বিমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পারমাণবিক অ-প্রসারণ নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, রাশিয়ার মতে, ইরানের পারমাণবিক চুক্তি পুনর্গঠনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য, তবে চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে তার বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের উপর। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে রয়ে গেছে, এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করবে যে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব হবে কি না।



